আমি এটি চাই না, কিন্তু আমরা ইরানকে ধ্বংস করে দিচ্ছি: ট্রাম্প

ইরানকে লক্ষ্য করে চলমান সংঘাত নিয়ে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, চাইলে যুক্তরাষ্ট্র এখনই যুদ্ধ থেকে সরে আসতে পারে, তবে সংঘাত শেষ করেই তা করবে। আমি এটি করতে চাই না। কিন্তু আমরা ইরানকে ধ্বংস করে দিচ্ছি।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (৬ এপ্রিল) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব মন্তব্য করেন ট্রাম্প। যুদ্ধ কতদিন চলতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তার সামনে একাধিক বিকল্প খোলা রয়েছে।
ট্রাম্পের ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে এখনই সরে যেতে পারে, কিন্তু তাতে ইরানের পুনর্গঠনে দীর্ঘ সময় লেগে যাবে। তবে তিনি যুদ্ধ শেষ করতে চান বলেই অবস্থান ধরে রেখেছেন। একইসঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানকে কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না।
বিজ্ঞাপন
যদিও যুক্তরাষ্ট্রের এমন অভিযোগ বহুবার তুলে ধরা হলেও ইরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টা অস্বীকার করে আসছে।
ইরানের জ্বালানি সম্পদ নিয়েও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, দেশটির তেল সম্পদ এমন অবস্থায় রয়েছে যে তা সহজেই নিয়ন্ত্রণে নেওয়া সম্ভব। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে এ থেকে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সুবিধা অর্জন করতে পারত। তবে তিনি স্বীকার করেন, মার্কিন জনগণের একটি অংশ দেশে ফিরে আসার পক্ষে মত দিচ্ছে।
এদিকে, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বিশেষ করে সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলার ইঙ্গিতও দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইরানের সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং ভবিষ্যতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। যদিও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত।
বিজ্ঞাপন
আরেকটি বিতর্কিত দাবি তুলে ধরে ট্রাম্প বলেন, গত বছরের শেষদিকে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিক্ষোভকারীদের সহায়তায় অস্ত্র পাঠানো হয়েছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব অস্ত্র জনগণের হাতে পৌঁছানোর কথা থাকলেও তা নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর কাছে থেকে গেছে। তবে ওই গোষ্ঠীর পরিচয় তিনি স্পষ্ট করেননি।
ট্রাম্পের এসব বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। একই সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: আল জাজিরা








