ইরান যুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্পই বড় পরাজিত: দ্য ইকোনমিস্ট

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের সম্ভাব্য সমাপ্তি যদি বর্তমান যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে হয়, তাহলে এতে সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প—এমনটাই বিশ্লেষণ করেছে ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট।
বিজ্ঞাপন
প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সংঘাত ট্রাম্পের ঘোষিত কৌশলগত লক্ষ্যগুলোকে পিছিয়ে দিয়েছে এবং সামরিক শক্তি প্রয়োগের তার ধারণার সীমাবদ্ধতাও সামনে এনেছে।
বর্তমান যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতিকে ভঙ্গুর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। লেবানন এই সমঝোতার অংশ কিনা, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ কীভাবে নিশ্চিত হবে কিংবা ইসলামাবাদে আলোচনার এজেন্ডা কী হবে—এসব বিষয়েই এখনো দুই পক্ষের মধ্যে মতৈক্য হয়নি।
বিজ্ঞাপন
বিশ্লেষণে বলা হয়, ট্রাম্প নতুন করে যুদ্ধে জড়ানোর ঝুঁকি কম। কারণ তিনি বুঝতে পেরেছেন, এই সংঘাত শুরু করাই ছিল ভুল সিদ্ধান্ত। পুনরায় উত্তেজনা বাড়লে বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে, যা তার ঘোষিত ‘মধ্যপ্রাচ্যের সোনালি যুগ’ ধারণাকে প্রশ্নের মুখে ফেলবে।
অন্যদিকে ইরানও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। অবকাঠামো ধ্বংস, অর্থনৈতিক চাপ এবং নেতৃত্ব পর্যায়ে হামলার পরও তেহরান মনে করছে, সময় তাদের পক্ষেই রয়েছে। কারণ দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সামরিক চাপ ধরে রাখা কঠিন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে, তবে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হাজারো হামলায় দেশটির অর্থনীতি কয়েক বছর পিছিয়ে গেছে।
বিজ্ঞাপন
ট্রাম্প এই পরিস্থিতিকে ‘বিজয়’ হিসেবে তুলে ধরলেও প্রতিবেদনে বলা হয়, তার ঘোষিত তিনটি মূল লক্ষ্য—মধ্যপ্রাচলে স্থিতিশীলতা আনা, ইরানের শাসনব্যবস্থার পতন এবং দেশটিকে পারমাণবিক শক্তিধর হওয়া থেকে বিরত রাখা—কোনোটিই অর্জিত হয়নি।
এদিকে যুদ্ধ আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেও জটিল করে তুলেছে। ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার এবং হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি থামানো যায়নি। উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এখনো তাদের কাছে রয়েছে, যা ভবিষ্যতে বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বিজ্ঞাপন
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু বক্তব্য আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল বলে উল্লেখ করা হয়।
সব মিলিয়ে, কৌশলগত পরিকল্পনার ঘাটতি ও অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের ফলে যুক্তরাষ্ট্র কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি—এমন মূল্যায়নই উঠে এসেছে প্রতিবেদনে।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: দ্য ইকোনমিস্ট








