ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির আশায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তি ঘিরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তৈরি হয়েছে নতুন আশাবাদ। এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে।
বিজ্ঞাপন
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা এবং দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমার ইঙ্গিত বাজারে স্বস্তি ফিরিয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সরবরাহ সংকট নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমেছে।
শুক্রবার (২৯ মে) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩৫ সেন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৯৩ দশমিক ৩৬ ডলারে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই ক্রুড ৬৩ সেন্ট কমে ৮৮ দশমিক ২৭ ডলারে নেমে এসেছে।
বিজ্ঞাপন
গত এক সপ্তাহে বাজারে ব্যাপক ওঠানামা দেখা গেছে। এ সময়ে ব্রেন্ট তেলের দাম প্রায় ৮ শতাংশের বেশি কমেছে। বিশ্লেষকদের মতে, গত সপ্তাহে যেখানে দাম ১০৯ ডলারের কাছাকাছি উঠেছিল, সেখানে পরবর্তীতে তা দ্রুত নেমে আসে ৮৭ ডলারের ঘরে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত গ্যাসের বড় একটি অংশ পরিবাহিত হয় গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে। তাই এই রুট নিয়ে যে কোনো রাজনৈতিক উত্তেজনা সরাসরি বিশ্ববাজারে প্রভাব ফেলে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতি বাড়ানো এবং হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের সীমাবদ্ধতা শিথিল করার বিষয়ে একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছে। তবে এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বিজ্ঞাপন
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, আলোচনা এখনো কিছু জটিলতার মধ্যে রয়েছে, বিশেষ করে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইস্যুতে মতপার্থক্য আছে। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, দুই পক্ষই একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, চূড়ান্ত চুক্তি হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও স্থিতিশীল হতে পারে এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের স্বস্তি ফিরতে পারে।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: রয়টার্স








