যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন : হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া সম্ভব নয়: ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে ইরান।
বিজ্ঞাপন
দেশটির প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ইরানি বন্দরগুলো ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ এবং বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলের ‘উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড’ যুদ্ধবিরতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে কার্যত ‘জিম্মি’ করে রাখা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, তেহরান আলোচনা চালিয়ে যেতে আগ্রহী থাকলেও বাস্তব পরিস্থিতিতে ‘অঙ্গীকার ভঙ্গ, অবরোধ ও হুমকি’ কার্যকর সংলাপের প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিজ্ঞাপন
চলতি সপ্তাহে পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন দফার শান্তি আলোচনা শুরু হতে পারে বলে আগে ধারণা করা হলেও এখনো তা শুরু হয়নি। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির সময়সীমা অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ইরানের ওপর চলমান নৌ অবরোধে ট্রাম্প সন্তুষ্ট এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানকে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করছেন তিনি। যুদ্ধ কখন শেষ হবে, সেই সিদ্ধান্তও ট্রাম্পের ওপর নির্ভর করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
এদিকে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরান জানিয়েছে, ‘পরিদর্শনের’ জন্য তারা দুটি কার্গো জাহাজ জব্দ করেছে। এর আগে একই এলাকায় তিনটি জাহাজে হামলার ঘটনাও ঘটে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নৌবাহিনী দাবি করেছে, আটক জাহাজগুলো অনুমতি ছাড়া চলাচল করছিল এবং বারবার নিয়ম ভঙ্গ করেছে। পাশাপাশি গোপনে প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা ও নেভিগেশন ব্যবস্থায় কারসাজির অভিযোগও আনা হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংস্থাটি।
এদিকে একটি গ্রিক মালিকানাধীন জাহাজে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গ্রিসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, তবে সেটি ইরান জব্দ করেছে কি না, তা স্পষ্ট করেননি তিনি।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, দেশটির নৌবাহিনীর সচিব জন ফেলান তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব ছাড়ছেন। যদিও এর পেছনের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এখন ইরানের কৌশলগত অগ্রাধিকার। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ জারি রেখে তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বজায় রাখতে চাইছে। ফলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও সামগ্রিক উত্তেজনা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: বিবিসি








