মধ্যরাতে ছদ্মবেশে রাস্তায় নারী আইপিএস, পেলেন ৪০ জনের কুপ্রস্তাব

শহরের রাস্তায় নারীদের নিরাপত্তা বাস্তবে কতটা নিশ্চিত—তা সরেজমিনে দেখতে অভিনব এক পদক্ষেপ নিয়েছেন ভারতের হায়দরাবাদের মালকাজগিরির পুলিশ কমিশনার সুমতি। সাধারণ নারীর ছদ্মবেশে গভীর রাতে একাকী বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তিনি এক রাতেই প্রায় ৪০ জনের কাছ থেকে কুপ্রস্তাব ও হয়রানির শিকার হন।
বিজ্ঞাপন
তেলঙ্গানা ক্যাডারের এই সিনিয়র আইপিএস কর্মকর্তা গত ১ মে দায়িত্ব নেওয়ার পর নারী নিরাপত্তার বাস্তব পরিস্থিতি বোঝার জন্য এই তিন ঘণ্টার অভিযান পরিচালনা করেন। খবর এনডিটিভির।
গত বৃহস্পতিবার (৬ মে) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে ভোর সাড়ে ৩টা পর্যন্ত তিনি মালকাজগিরি থানার কাছে একটি বাসস্ট্যান্ডে কোনো নিরাপত্তা বা পুলিশি প্রটোকল ছাড়াই অবস্থান করেন। সাধারণ পোশাকে থাকায় উপস্থিত কেউ বুঝতে পারেননি যে তিনি একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা।
বিজ্ঞাপন
কমিশনারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে প্রায় ৪০ জন পুরুষ তার সঙ্গে অশালীন আচরণ করে এবং কুপ্রস্তাব দেয়। এদের মধ্যে নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি ছাড়াও শিক্ষার্থী ও তরুণরাও ছিল বলে জানা গেছে।
তিনি জানান, কেউ কেউ স্বাভাবিকভাবে আলাপ শুরু করলেও পরে আচরণ অশালীন হয়ে ওঠে। নারীদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বোঝার জন্য অভিযোগের বাইরে গিয়ে মাঠপর্যায়ে বাস্তব চিত্র দেখতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
বিজ্ঞাপন
অভিযানের পর বেশ কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা না নিয়ে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। শনাক্তদের থানায় ডেকে বিশেষ কাউন্সেলিং করা হয় এবং নারীদের প্রতি সম্মানজনক আচরণ বিষয়ে সতর্ক করা হয়।
সুমতির মতে, শুধু শাস্তি নয়, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আগেভাগে নজরদারি বাড়ানো এবং অপরাধ প্রতিরোধই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
এর আগে কাজিপেট রেলওয়ে স্টেশনে দায়িত্বকালেও তিনি একই ধরনের ছদ্মবেশী অভিযান চালিয়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। নতুন দায়িত্ব নেওয়ার পর তার এই উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রশংসা পাচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন:
এই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা বৃদ্ধি এবং বিশেষ পুলিশ টিম ‘শি টিম’-এর টহল আরও জোরদার করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে প্রশাসন।








