Logo

যুদ্ধের সময় ইরাকেও যুদ্ধবিমান হামলা চালায় সৌদি আরব

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৪ মে, ২০২৬, ১৫:২৭
যুদ্ধের সময় ইরাকেও যুদ্ধবিমান হামলা চালায় সৌদি আরব
ছবি: সংগৃহীত

ইরানকে কেন্দ্র করে চলা যুদ্ধকালীন উত্তেজনার সময় ইরাকের ভেতরে তেহরান-সমর্থিত শিয়া মিলিশিয়াদের একাধিক ঘাঁটিতে সৌদি আরবের যুদ্ধবিমান হামলা চালিয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। একই সময়ে কুয়েত থেকেও ইরাকের অভ্যন্তরে পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক নিরাপত্তা ও সামরিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাত ধীরে ধীরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এই প্রেক্ষাপটেই আড়ালে থাকা এসব সামরিক অভিযান সংঘটিত হয়।

তিনজন ইরাকি নিরাপত্তা ও সামরিক কর্মকর্তা, একজন পশ্চিমা কর্মকর্তা এবং আরও কয়েকজন অবগত ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। তাদের একজন বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।

বিজ্ঞাপন

সূত্রগুলো জানায়, সৌদি আরবের উত্তর সীমান্তের কাছাকাছি ইরাকি এলাকায় ইরান-ঘনিষ্ঠ মিলিশিয়াদের অবস্থান লক্ষ্য করে সৌদি বিমানবাহিনী হামলা চালায়। এসব স্থাপনা থেকে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর দিকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিচালিত হচ্ছিল বলে দাবি করা হয়।

একজন পশ্চিমা কর্মকর্তা এবং আরেকটি সূত্রের মতে, কিছু হামলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির সময়সীমার আশপাশেও ঘটেছে।

ইরাকি সূত্রগুলোর সামরিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, অন্তত দুই দফায় কুয়েতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরাকের ভেতরে রকেট হামলা চালানো হয়। এর মধ্যে দক্ষিণ ইরাকে এক হামলায় কয়েকজন যোদ্ধা নিহত হওয়ার দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী কাতাইব হিজবুল্লাহর যোগাযোগ ও ড্রোন পরিচালনার একটি স্থাপনাও ধ্বংস করা হয়।

বিজ্ঞাপন

তবে কুয়েত থেকে নিক্ষেপ করা রকেট কারা ছুড়েছে—কুয়েতি বাহিনী নাকি সেখানে অবস্থানরত মার্কিন সেনারা—এ বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। মার্কিন সামরিক বাহিনী এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। কুয়েত ও ইরাক সরকারের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি।

সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, দেশটি সবসময় উত্তেজনা কমানো এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার পক্ষে অবস্থান নেয়। তবে ইরাকের ভেতরের হামলা প্রসঙ্গে তিনি সরাসরি কিছু জানাননি।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে কাতাইব হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও জানা গেছে, যুদ্ধ চলাকালে সৌদি আরব ইরানের ভূখণ্ডেও হামলা চালিয়েছে, যা কাতারের মাধ্যমে সৌদি ভূখণ্ডে হামলার প্রতিশোধ হিসেবে দেখা হয়। এটি প্রথমবারের মতো রিয়াদের সরাসরি ইরানে আঘাত হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।

একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানে অনুরূপ হামলায় অংশ নেয় বলে কয়েকজন সূত্র জানিয়েছে। তবে উপসাগরীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে পরিচালিত শত শত ড্রোন হামলার বড় অংশ ইরাক থেকেই নিয়ন্ত্রিত হচ্ছিল বলে দাবি করা হয়।

বিজ্ঞাপন

যুদ্ধ চলাকালে বিভিন্ন অনলাইন চ্যানেলে সৌদি আরব ও কুয়েতের ওপর হামলার দাবি ছড়ালেও সেগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

ক্রমবর্ধমান হামলা ও পাল্টা হামলার কারণে সৌদি আরব ও কুয়েত ইরাকভিত্তিক মিলিশিয়াদের ওপর চাপ বাড়াতে শুরু করে। এসব গোষ্ঠীর হাতে হাজারো যোদ্ধা এবং ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের মতো অস্ত্র রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পরিস্থিতির কারণে কুয়েত একাধিকবার ইরাকের কূটনৈতিক প্রতিনিধিকে তলব করে এবং সীমান্তপারের হামলার বিষয়ে প্রতিবাদ জানায়। একইভাবে সৌদি আরবও ইরাকের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে উদ্বেগ প্রকাশ করে।

উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইরাকের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই অনাস্থা ও উত্তেজনায় ভরা। অতীতের যুদ্ধ, আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং ইরান-ঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠীর উত্থান এই সম্পর্ককে আরও জটিল করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরাক এখন ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে, যেখানে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী প্রায় স্বাধীনভাবে কার্যক্রম চালায়।

বিজ্ঞাপন

২০২৩ সালে ইরান ও সৌদি আরবের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার আশা জাগালেও সাম্প্রতিক সংঘাত সেই অগ্রগতিকে নতুন করে চাপে ফেলেছে।

সূত্রগুলো আরও দাবি করেছে, সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরব ও কুয়েত ইরাককে সতর্ক করেছিল যেন ইরানপন্থি গোষ্ঠীগুলো সীমান্তপারের হামলা বন্ধ করে। কিছু হামলা প্রতিহত করার দাবিও করেছে ইরাকি বাহিনী।

বিজ্ঞাপন

তবে একাধিক সূত্রের মতে, এখনও ওই মিলিশিয়ারা সীমান্ত এলাকায় নজরদারি ড্রোন ব্যবহার করছে এবং সেগুলোর মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে পরবর্তী হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD