Logo

চাকরি ছেড়ে অটোরিকশার স্টিয়ারিংয়ে তরুণী, মাসে আয় ৬০ হাজার

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২ জুন, ২০২৬, ১৩:২৮
চাকরি ছেড়ে অটোরিকশার স্টিয়ারিংয়ে তরুণী, মাসে আয় ৬০ হাজার
ছবি: সংগৃহীত

অফিসের অন্তহীন মিটিং, হঠাৎ করে জরুরি কলের চাপ, নির্ধারিত কর্মঘণ্টার বাইরে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ—তথ্যপ্রযুক্তি খাতের অনেক কর্মীর কাছেই এগুলো নিত্যদিনের বাস্তবতা। করপোরেট জীবনের এই নিরন্তর চাপ ও মানসিক ক্লান্তি অনেক সময় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করে। এমন পরিস্থিতিতে ভারতের এক তরুণী সাহসী ও ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের চাকরি ছেড়ে বেছে নিয়েছেন অটোরিকশা চালানোর পেশা।

বিজ্ঞাপন

শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অফিসকক্ষের চাকরি ছেড়ে রাস্তায় নেমে অটোরিকশা চালানোর এই সিদ্ধান্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই তার জীবনযাত্রার এই পরিবর্তনকে সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। কারণ, তিনি শুধু পেশাই পরিবর্তন করেননি, বরং মানসিক শান্তি ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আইটি সেক্টরের চাকরিতে কাজের অতিরিক্ত চাপ এবং দীর্ঘ কর্মঘণ্টার কারণে ওই তরুণী প্রচণ্ড মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। পেশাগত জীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ছিল। এই একঘেয়েমি ও মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে তিনি সম্পূর্ণ ভিন্ন কিছু করার কথা ভাবেন। নিজের শর্তে স্বাধীনভাবে বাঁচার তাগিদে তিনি অটোরিকশা চালানোকে পেশা হিসেবে বেছে নেন।

বিজ্ঞাপন

প্রথাগত করপোরেট ক্যারিয়ার ছেড়ে একজন নারীর অটোরিকশা চালানোর এই সিদ্ধান্ত শুরুতে অনেককে চমকে দিলেও, শেষ পর্যন্ত তা তার জন্য দারুণ ফল এনে দিয়েছে। তরুণী জানান, আগের চেয়ে তিনি এখন অনেক বেশি শান্তিতে আছেন। নিজের সুবিধাজনক সময়ে কাজ করার স্বাধীনতা পাওয়ায় তিনি এখন জীবনকে অনেক বেশি উপভোগ করতে পারছেন।

ইন্টারনেটে এই তরুণীর জীবনযুদ্ধের গল্প ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রচলিত ধ্যানধারণা ভেঙে নিজের মানসিক শান্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য তার সাহসের প্রশংসা করেন।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির নিচে মন্তব্য করতে গিয়ে এক আইটি চাকরিজীবী লিখেছেন, আইটি সেক্টরে ১৮ বছর কাটানোর পরও আমাকে এখনো অন্তহীন মিটিং সইতে হয়, যা আসলে একটা ই-মেইলের মাধ্যমেই সেরে ফেলা যেত। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ‘কুইক কল’ আর গভীর রাতের টেকনিক্যাল সমস্যার পেছনে ছুটতে ছুটতে আমাদের ধৈর্য আর মানসিক শক্তি এখন শেষ পর্যায়ে।

বিজ্ঞাপন

আরেক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, নিশ্চয়ই আইটি চাকরি করার সময় তিনি ব্যাংক ব্যালেন্সে ৫০ লাখ থেকে দুই কোটি রুপি জমিয়ে নিয়েছেন, যার কারণে এখন এই ঝুঁকি নিতে পেরেছেন।

এদিকে তৃতীয় এক নেটিজেন তার সরল ও শান্তিপূর্ণ জীবনযাপনের সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে লিখেছেন, দিনশেষে প্রতিটি মানুষই একটু মানসিক শান্তি চায়। তার ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা।

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনার সূত্র ধরে আরেকজন ব্যবহারকারী ভারতের উত্তর প্রদেশের এক ব্যক্তির অনুপ্রেরণাদায়ী গল্প শেয়ার করেছেন। তিনি জানান, এক ব্যক্তি ১৫ বছর আগে করপোরেট চাকরি ছেড়ে অটোরিকশা চালানো শুরু করেছিলেন। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আজ তিনি পাঁচটি ট্রাকের মালিক এবং প্রায় পাঁচ কোটি রুপির সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন।

অনেকের মতে, এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে পেশাগত সাফল্যের সংজ্ঞা সবার জন্য এক নয়। কারও কাছে উচ্চ বেতনের চাকরি গুরুত্বপূর্ণ, আবার কারও কাছে মানসিক প্রশান্তি ও স্বাধীনতাই জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন।

সূত্র: এনডিটিভি

বিজ্ঞাপন

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD