কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার কারণ ব্যাখ্যা করল ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান জানিয়েছে, কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার পেছনে তাদের নিজস্ব নিরাপত্তা-সংক্রান্ত কারণ রয়েছে। তেহরানের দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত মার্কিন সামরিক অভিযানে ওই দুই দেশের ভূখণ্ড ও সহযোগিতা ব্যবহৃত হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (৩ জুন) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইরান। দেশটির মতে, এ ধরনের অভিযান যুদ্ধবিরতি এবং আন্তর্জাতিক আইন উভয়েরই পরিপন্থী।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় কুয়েত ও বাহরাইনের প্রত্যক্ষ দায় রয়েছে। কারণ তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক তৎপরতা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ তেহরানের।
বিজ্ঞাপন
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আত্মরক্ষার অধিকার সংরক্ষণ করে ইরান ভবিষ্যতে যেকোনো হামলার জবাব দিতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। হামলার উৎস ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে সতর্ক করেছে দেশটি।
এর আগে কুয়েতের প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছিল, মঙ্গলবার ভোরে দেশটিতে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটির দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়া হয়। তবে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় থাকায় সেগুলো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই ভূপাতিত করা সম্ভব হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
কুয়েতের সামরিক বাহিনীর দাবি, দেশের অভ্যন্তরে কোনো স্থাপনায় সরাসরি হামলা হয়নি। রাতের বেলায় বিস্ফোরণের মতো যে শব্দ শোনা গেছে, তা মূলত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের ফল।
তবে ওই বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করেছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় সংগঠনটি দাবি করেছে, কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে অন্তত তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে আঘাত হেনেছে।
একই সময়ে বাহরাইনে মার্কিন নৌঘাঁটিকেও লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি বাহরাইনের সামরিক কর্তৃপক্ষ।
বিজ্ঞাপন
এদিকে ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, কেশম দ্বীপ সংলগ্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কিছু সময় পরই কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর দিকে হামলা চালানো হয়। তবে এসব ঘটনার স্বাধীন যাচাই তাৎক্ষণিকভাবে সম্ভব হয়নি।








