পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসে অস্থিরতা, রাজ্যের সব কমিটি বিলুপ্ত

পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসে অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনের মধ্যে বড় সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্যের সব কমিটি ও সহযোগী সংগঠন ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দলটি।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তৃণমূল কংগ্রেস জানায়, সিদ্ধান্তটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে। একই সঙ্গে দলের সাংগঠনিক কাঠামো, দায়িত্ব বণ্টন ও কার্যক্রম নতুন করে মূল্যায়ন করা হবে। পর্যালোচনা শেষে পর্যায়ক্রমে নতুন কমিটি গঠন করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি দুই নেতা—ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে দলবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়। এর পরদিনই তারা দাবি করেন, ৮০ সদস্যের তৃণমূল বিধায়ক দলের মধ্যে ৬০ জন তাদের অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
বিদ্রোহী নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ভারতের দলত্যাগবিরোধী আইনে নির্ধারিত দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থনের সীমা তারা অতিক্রম করেছেন। তারা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধীদলীয় নেতা করার প্রস্তাবও দিয়েছেন। তবে দলীয় প্রধান হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব বহাল রাখার পক্ষেও অবস্থান জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি দলটির অভ্যন্তরে নতুন ক্ষমতার সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে কেন্দ্র করে বিরোধিতা প্রকাশ্যে চলে এসেছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, দলের পরিচালনায় করপোরেট ধাঁচের প্রভাব বাড়ছে।
সংকট আরও গভীর হয় যখন বহিষ্কৃত নেতারা অভিযোগ তোলেন, গুরুত্বপূর্ণ কিছু দলীয় সিদ্ধান্তে কয়েকজন বিধায়কের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আই-প্যাকের অতিরিক্ত প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
৬০ বিধায়কের সমর্থনের দাবিকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসে সম্ভাব্য বিভাজনের আলোচনা জোরালো হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দলের ঐক্য ধরে রাখা এবং সাংগঠনিক সংকট মোকাবিলা এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।








