Logo

দিল্লিতে ফিরেই মোদীর বিরুদ্ধে আন্দোলনের ঘোষণা ককরোচ প্রতিষ্ঠাতার

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৭ জুন, ২০২৬, ১৬:৪৮
দিল্লিতে ফিরেই মোদীর বিরুদ্ধে আন্দোলনের ঘোষণা ককরোচ প্রতিষ্ঠাতার
ছবি: সংগৃহীত

ভারতে বেকারত্ব, ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়ম এবং তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে সরকারবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে দেশে ফিরেছেন ৩০ বছর বয়সী উদ্যোক্তা অভিজিৎ দীপকে। তরুণদের ক্ষোভকে সংগঠিত আন্দোলনে রূপ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই তার এই প্রত্যাবর্তন।

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যঙ্গধর্মী রাজনৈতিক উদ্যোগ ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ শনিবার (৬ জুন) দিল্লিতে পৌঁছান। তিনি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করে শিক্ষা ব্যবস্থা, কর্মসংস্থান এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

দেশে ফেরার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় অভিজিৎ বলেন, পরিবার ও বন্ধুদের মধ্যে তার গ্রেপ্তার নিয়ে শঙ্কা থাকলেও তিনি আর নীরব থাকতে চান না। তার ভাষ্য, দেশের ভবিষ্যৎ সংকটের মুখে, তাই এখনই কথা বলার সময়।

বিজ্ঞাপন

দিল্লিতে তার আগমনকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরে পুলিশ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির অনুমতি দিলে রাজধানীর জন্তর মন্তরে বিক্ষোভ আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

ভারতের উচ্চশিক্ষা ও ভর্তি পরীক্ষাগুলো দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্নফাঁস, প্রযুক্তিগত ত্রুটি এবং নানা অনিয়মের অভিযোগে সমালোচনার মুখে রয়েছে। সম্প্রতি দেশটির বৃহত্তম মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে বাতিল হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন করে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

বিজ্ঞাপন

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ভেরোনিকা মাদান বলেন, পরীক্ষার চাপ শুধু পরীক্ষার দিনেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে প্রভাবিত করে। দুই বছর প্রস্তুতি নিয়েও কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন তিনি।

ভারতের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ তরুণ। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ২৫ বছরের কম বয়সী স্নাতকদের উল্লেখযোগ্য অংশ এখনও বেকার। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষাজীবন শেষ করেও কর্মসংস্থান না পাওয়া তরুণদের জন্য বড় সংকটে পরিণত হয়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত জনপ্রিয়তা পায় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে উদ্যোগটির অনুসারীর সংখ্যা দুই কোটির বেশি ছাড়িয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি তেলাপোকার প্রতীকী ছবি বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

বিজ্ঞাপন

আন্দোলনের পেছনে দেশটির প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যও আলোচনায় আসে। অনেকেই মনে করেছিলেন তিনি বেকার তরুণদের ‘ককরোচ’ বলে উল্লেখ করেছেন। যদিও পরে তিনি স্পষ্ট করেন, তার মন্তব্যটি ভুয়া সনদধারীদের উদ্দেশ্যে ছিল। তবে ততক্ষণে তরুণদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

আন্দোলনের সমর্থক অমৃতা সিং বলেন, দেশের উন্নয়নে তরুণদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই তাদের সমস্যাগুলো সামনে আনা এবং সমাধানের দাবি তোলা প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে আন্দোলনের মুখপাত্র ও অনুসন্ধানী সাংবাদিক সৌরভ দাসের দাবি, তাদের মূল লক্ষ্য রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা বিভিন্ন সমস্যা এখন বড় আকার ধারণ করেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার গত এক দশকে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করলেও নির্বাচনী সাফল্য ধরে রেখেছে। তবে অভিজিৎ দীপকের মতে, কয়েক বছর আগের তুলনায় এখন তরুণরা অনেক বেশি সরব এবং সরকারবিরোধী মত প্রকাশেও সাহসী হয়ে উঠছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, তাদের আন্দোলন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক হবে। দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন তরুণদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরা এবং শিক্ষা ও কর্মসংস্থান খাতে জবাবদিহি নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

সূত্র: সিএনএন

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD