মেয়েকে হত্যা করে প্রেমিকের সঙ্গে পালালেন প্রিয়াঙ্কা

ভারতের বেঙ্গালুরুতে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে হত্যার ঘটনায় তার মা ও মায়ের কথিত প্রেমিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (৬ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ মার্চ পাঁচ বছর বয়সী ভেন্নিলার মৃত্যু হয়। পরে শিশুটির বাবা প্রবীণ পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করে দাবি করেন, তার স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা এবং প্রিয়াঙ্কার কথিত প্রেমিক মোহন এই মৃত্যুর সঙ্গে জড়িত।
বিজ্ঞাপন
দাভানাগেরের বাসিন্দা প্রবীণ ২০০৭ সালে বেঙ্গালুরু-নিবাসী প্রিয়াঙ্কাকে বিয়ে করেছিলেন। এই দম্পতির ১৭ ও ৫ বছর বয়সী দুটি মেয়ে রয়েছে। পুলিশের ভাষ্যমতে, প্রিয়াঙ্কা কয়েক বছর আগে তার কলেজের বন্ধু মোহনের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ স্থাপন করেন এবং একসঙ্গে বসবাস শুরু করার আগে তাদের মধ্যে একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সম্পর্ক নিয়ে বিবাদের পর, প্রিয়াঙ্কা বিবাহবিচ্ছেদের জন্য জোর দিয়েছিলেন। মোহনের সঙ্গে থাকতে শুরু করার পর প্রিয়াঙ্কা তার ছোট মেয়ের সঙ্গে থাকছিলেন।
গত ২৪ মার্চ শিশুটির আকস্মিক মৃত্যু সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে, তিনি কথিতভাবে বিভিন্ন ব্যাখ্যা দেন। একবার তিনি পরিবারের সদস্যদের বলেন যে, তিনি মেয়েটিকে বিরিয়ানি খাইয়েছিলেন। আরেকবার বলেন, তিনি তাকে আইসক্রিম দিয়ে একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় রেখে এসেছিলেন। পরে তিনি দাবি করেন যে, পরদিন সকালে বাড়ি ফেরার পর তিনি শিশুটিকে মৃত অবস্থায় পান।
অভিযোগ অনুযায়ী, শিশুটিকে শারীরিক নির্যাতনের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
বিজ্ঞাপন
এ ঘটনায় পুলিশ মোহনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে শিশুটির মা প্রিয়াঙ্কা এখনও পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট তথ্য জানতে ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির (এফএসএল) প্রতিবেদনের অপেক্ষা করা হচ্ছে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর তদন্ত আরও এগিয়ে নেওয়া হবে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বিজ্ঞাপন








