শুক্রবারের আগেই মার্কিন-ইরান চুক্তি প্রকাশ করতে পারেন ট্রাম্প

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমনের লক্ষ্যে হওয়া প্রাথমিক চুক্তি শুক্রবারের আগেই প্রকাশ করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি বলেন, চুক্তিটি একটি সংক্ষিপ্ত কাঠামোগত দলিল, যা ভবিষ্যৎ আলোচনার ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (১৬ জুন) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে চুক্তির কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক প্রকাশ করতে শুরু করেছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী শুক্রবার হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হতে পারে এবং একই দিনে জেনেভায় আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে এই চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে ইরান ইস্যুতে একটি বিশেষ অধিবেশনও আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে মিশর, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিনিধিরাও অংশ নিচ্ছেন।
বিজ্ঞাপন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনার সময় প্রাথমিক চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি দাবি করেন, চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এই চুক্তিতে ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ স্বাক্ষর করেছেন। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে প্রযুক্তিগত আলোচনা শিগগিরই শুরু হবে। তবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বা জব্দকৃত অর্থ ফেরতের বিষয়টি ইরানের শর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করবে।
ভ্যান্স এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এটি একটি কাঠামোগত সমঝোতা, যার অনেক দিক ভবিষ্যৎ আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। ইরান প্রতিশ্রুতি পূরণ করলে চুক্তির সুবিধা পাবে।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও জানান, চুক্তির প্রথম অংশে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতি ইরানের অঙ্গীকার এবং ‘সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে’ অর্থায়ন বন্ধের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে যাচাইযোগ্য প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।
আরও পড়ুন: ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাত
সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, এই চুক্তির ফলে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানো হতে পারে। এই সময়ের মধ্যে উভয় পক্ষ চূড়ান্ত চুক্তির বিস্তারিত নিয়ে আলোচনা চালাবে।
বিজ্ঞাপন
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ দাবি করেছেন, এই আলোচনায় মধ্যস্থতার ভূমিকা রেখেছে পাকিস্তান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধের বিষয়টি চুক্তির অংশ।
অন্যদিকে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লেবানন যুদ্ধবিরতির কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত থাকলেও সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার চুক্তির শর্ত নয়। ইসরায়েল আত্মরক্ষার অধিকার বজায় রাখবে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইসরায়েল লেবানন, সিরিয়া ও গাজায় প্রয়োজন অনুযায়ী অবস্থান অব্যাহত রাখবে এবং যেকোনো হামলা প্রতিহত করবে। তিনি আরও বলেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ কোনোভাবেই দেওয়া হবে না।
বিজ্ঞাপন
চুক্তি ঘোষণার পর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং ইতোমধ্যে জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সামরিক সংঘাত বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ইরানি গণমাধ্যম এটিকে দেশের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে উপস্থাপন করছে।
বিজ্ঞাপন
তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি এখনো গভীর অবিশ্বাস রয়েছে এবং এই চুক্তি কেবলমাত্র উত্তেজনা প্রশমনের একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ।
সূত্র: বিবিসি







