Logo

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি : ট্রাম্পের ওপর হতাশ নেতানিয়াহু

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৬ জুন, ২০২৬, ১৬:৩৯
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি : ট্রাম্পের ওপর হতাশ নেতানিয়াহু
ছবি: সংগৃহীত

ইরানকে কেন্দ্র করে নেওয়া সামরিক ও কূটনৈতিক কৌশল প্রত্যাশিত ফল না দেওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান নিয়ে হতাশায় পড়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। বিশেষ করে ওয়াশিংটন-তেহরান সমঝোতার উদ্যোগ এবং লেবানন ইস্যুতে দুই নেতার মধ্যে মতপার্থক্য ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

বিজ্ঞাপন

গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর সময় নেতানিয়াহু আশা করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় পরিচালিত এই চাপের ফলে তেহরানের ইসলামি সরকার দুর্বল হয়ে পড়বে। পাশাপাশি আসন্ন নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের অন্যতম স্থপতি হিসেবে তার রাজনৈতিক অবস্থানও আরও শক্তিশালী হবে।

তবে পরিস্থিতি তার প্রত্যাশা অনুযায়ী এগোয়নি। ইরানের সরকার বহাল রয়েছে, আর ট্রাম্প প্রশাসন সংঘাত দীর্ঘায়িত না করে দ্রুত সমঝোতার পথে এগোতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। একই সময়ে ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক তৎপরতাও সীমিত হয়ে এসেছে।

বিজ্ঞাপন

বিশেষ করে লেবাননে সামরিক অভিযান নিয়ে দুই নেতার মধ্যে একাধিকবার মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন সেখানে উত্তেজনা কমানোর পক্ষে অবস্থান নিলেও নেতানিয়াহু অভিযান চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে। এ নিয়ে তাদের সম্পর্কেও টানাপোড়েনের খবর বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে।

ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে প্রস্তাবিত ‘ইসলামাবাদ মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং’। আগামী ১৯ জুন স্বাক্ষরের অপেক্ষায় থাকা এই সমঝোতাকে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের অনেকেই ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন।

বিজ্ঞাপন

জোট সরকারের একটি শরিক দলের এক জ্যেষ্ঠ নেতা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে বলেন, চুক্তিটি ইসরায়েলের জন্য উদ্বেগজনক। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সামরিক নেতৃত্ব পর্যন্ত এ বিষয়ে একই ধরনের আশঙ্কা পোষণ করছেন।

নেতানিয়াহুর উদ্বেগের আরেকটি বড় কারণ লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। তিনি মনে করেছিলেন, ইরানের ওপর চাপ বৃদ্ধির ফলে হিজবুল্লাহও দুর্বল হয়ে পড়বে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে সমঝোতার পথে হাঁটছে এবং লেবাননে সামরিক অভিযান কমানোর আহ্বান জানাচ্ছে।

সোমবার জেরুজালেমে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্নের জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, “তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, আমি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। অনেক বিষয়ে আমাদের মত মিলতে পারে, আবার নাও মিলতে পারে। তবে ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমার দায়িত্ব।”

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাংক আটলান্টিক কাউন্সিলের কর্মকর্তা ও ইসরায়েলে সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান শাপিরো মনে করেন, এটি দুই দেশের মধ্যে স্বার্থগত পার্থক্যের একটি স্পষ্ট উদাহরণ। তার মতে, নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে ট্রাম্পের বিরোধিতা এড়িয়ে চললেও এমন বার্তা দিতে পারেন যে, ইসরায়েল নিজস্ব নিরাপত্তা স্বার্থে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করে।

এদিকে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও চাপে রয়েছেন নেতানিয়াহু। সামনে পার্লামেন্ট নির্বাচন এবং জনসমর্থন কমে যাওয়ায় তার জন্য সময়টা বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

সূত্র: রয়টার্স

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD