আফগান সরকারি কর্মকর্তাদের স্মার্টফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

সরকারি দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের স্মার্টফোন ব্যবহার বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে আফগানিস্তানের তালেবান প্রশাসন। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সরকারি পর্যায়ে স্মার্টফোন ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কেউ এ নির্দেশ অমান্য করলে তাকে আইনি ব্যবস্থা ও শরিয়াভিত্তিক শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলে জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। দেশটির সামরিক আদালতের সাম্প্রতিক এক নির্দেশনার মাধ্যমে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহ থেকেই সরকারি কাঠামোর আওতায় থাকা সব পর্যায়ের ব্যক্তির জন্য স্মার্টফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকবে। এতে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, নিম্নপদস্থ কর্মচারী, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং অন্যান্য সেবাকর্মীরাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পর দেশটির বিভিন্ন স্থানে কর্মকর্তাদের মধ্যে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, অনেকে সম্ভাব্য শাস্তি এড়াতে নিজেদের ব্যবহৃত স্মার্টফোন নষ্ট করে ফেলেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতেও এমন দৃশ্য দেখা গেছে, যেখানে কর্মকর্তারা নির্দেশনা পাঠ করছেন এবং অন্যরা স্মার্টফোন ভেঙে ফেলছেন।
তালেবান প্রশাসনের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী স্মার্টফোন ব্যবহার করতে ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট ডিভাইস ধ্বংস করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি বিধি ভঙ্গের দায়ে তার বিরুদ্ধে আইনগত ও শরিয়াভিত্তিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নতুন নীতিমালায় বিশেষ ছাড়ের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে কেউ স্মার্টফোন ব্যবহারের অনুমতি চাইলে তাকে তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা-এর লিখিত অনুমোদন বা বিশেষ ডিক্রি সংগ্রহ করতে হবে। এমন অনুমতি ছাড়া কোনো কর্মকর্তার জন্য স্মার্টফোন ব্যবহার বৈধ হবে না।
বিজ্ঞাপন
আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, নির্দেশনাটি বর্তমানে সব এলাকায় একইভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে না। কোথাও শুধু সরকারি কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়েছে, আবার কিছু অঞ্চলে এর পরিধি আরও বিস্তৃত করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কয়েকটি এলাকায় নারী, সাধারণ নাগরিক, স্বাস্থ্যসেবাকর্মী, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও স্মার্টফোন ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপের নজির দেখা গেছে। তবে এসব পদক্ষেপ দেশজুড়ে একযোগে কার্যকর হয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো সরকারি ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
বিজ্ঞাপন
পর্যবেক্ষকদের মতে, তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার অংশ হিসেবেই তালেবান প্রশাসন এ ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে স্মার্টফোন ব্যবহার নিষিদ্ধের ফলে সরকারি কার্যক্রম, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন সেবামূলক খাতে কী ধরনের প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।








