ইসরায়েলকে কড়া বার্তা দিলেন ভ্যান্স, ‘তোমাদের অস্ত্রের টাকা আমেরিকা দেয়’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক নিয়ে ইসরায়েলের কিছু মন্ত্রীর সমালোচনার জবাবে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি বলেছেন, ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যবহৃত অধিকাংশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের অর্থায়ন মার্কিন করদাতাদের অর্থ থেকেই আসে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও বাস্তবতা উপলব্ধি করা প্রয়োজন।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার পক্ষে অবস্থান নিয়ে ভ্যান্স বলেন, ইসরায়েলি সরকারের কয়েকজন সদস্য শুধু চুক্তির সমালোচনাই করেননি, তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেছেন। অথচ বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে ট্রাম্পই ইসরায়েলের সবচেয়ে শক্তিশালী মিত্রদের একজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
ইসরায়েলের মন্ত্রিসভার সদস্যদের উদ্দেশে ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ মিত্রকে প্রকাশ্যে আক্রমণ করা কোনোভাবেই বুদ্ধিমানের কাজ নয়। তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত বিপুলসংখ্যক অস্ত্র ও সামরিক সহায়তা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে সরবরাহ করা হয়েছে।
ভ্যান্স আরও বলেন, ইসরায়েলের নিরাপত্তা সংকটের জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়ী নন। যারা এমন ধারণা পোষণ করেন, তাদের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করা উচিত।
বিশ্লেষকদের মতে, ভ্যান্সের এই বক্তব্য মূলত ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ এবং জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের সমালোচনার জবাব। তারা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতাকে ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানিয়েছিলেন।
বিজ্ঞাপন
এর আগে এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স ইসরায়েলের কিছু রাজনৈতিক মহলের উদ্বেগকে ‘অস্বাভাবিক’ বলে মন্তব্য করেন। তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অযৌক্তিক অবিশ্বাস এবং ভুল তথ্যের ভিত্তিতে আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেবল সামরিক পদক্ষেপ বা সংঘাতের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে কোনো দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব কি না। তার মতে, টেকসই সমাধানের জন্য কূটনৈতিক উদ্যোগেরও প্রয়োজন রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
উল্লেখ্য, গত ১৭ জুন নির্ধারিত সময়ের আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। চুক্তি অনুযায়ী, ইরান কিছু শর্ত মেনে চলার বিনিময়ে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার সুযোগ পাবে। তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত নয়। আগামী ৬০ দিনের আলোচনার মাধ্যমে পারমাণবিক কর্মসূচিসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল, আল-জাজিরা








