Logo

ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘হতাশা থেকে’ চুক্তি করেছেন: মোজতবা খামেনি

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৯ জুন, ২০২৬, ১৩:৪৩
ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘হতাশা থেকে’ চুক্তি করেছেন: মোজতবা খামেনি
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া চুক্তিকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক আলোচনা তৈরি হয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোজতবা খামেনি দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘হতাশা থেকে’ এই চুক্তি বাস্তবায়নের পথে এগিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

চুক্তির পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। তবে কিছু মার্কিন যুদ্ধজাহাজ এখনো ওই অঞ্চলে অবস্থান করছে।

চুক্তি নিয়ে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন মোজতবা খামেনি। তিনি জানান, ব্যক্তিগত মতভেদ থাকলেও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের আশ্বাসের ভিত্তিতে তিনি চুক্তিতে সম্মতি দিয়েছেন। পেজেশকিয়ান তাকে নিশ্চিত করেছেন যে, এতে ইরানি জনগণের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে।

বিজ্ঞাপন

খামেনির দাবি, ট্রাম্প প্রশাসন হতাশা থেকে বিভিন্ন ধরনের চাপ সৃষ্টি করে এই চুক্তি কার্যকর করার চেষ্টা করেছে। পাশাপাশি তিনি সতর্ক করেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা হলেও তা কখনোই ওয়াশিংটনের শর্ত মেনে নেওয়ার সমান হবে না।

চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র না রাখার প্রতিশ্রুতি এবং দেশটির পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠন। এছাড়া সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা পারস্পরিক সম্মতিতে বাড়ানো যেতে পারে।

বিজ্ঞাপন

মূলত শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে চুক্তি স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিক আয়োজন হওয়ার কথা ছিল। তবে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের মতে, আগেই দূরবর্তী পদ্ধতিতে চুক্তি স্বাক্ষর সম্পন্ন হওয়ায় ওই অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়। এরপরও দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের মধ্যে সুইজারল্যান্ডে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নির্ধারিত সুইজারল্যান্ড সফর আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, প্রযুক্তিগত ও কারিগরি পর্যায়ের আলোচনার জন্য শিগগিরই সেখানে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ইরানের পুনর্গঠন তহবিল নিয়ে রিপাবলিকান দলের একাংশ সমালোচনা করছে। রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডি একে “দশকের সবচেয়ে বড় পররাষ্ট্রনীতি ব্যর্থতা” বলে মন্তব্য করেছেন।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে জেডি ভ্যান্স চুক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, ইরানকে তার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত ধ্বংস করতে হবে এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অর্থায়ন বন্ধ করতে হবে। এসব শর্ত পূরণ না হলে কোনো অর্থনৈতিক সুবিধা বা নিষেধাজ্ঞা শিথিলতা দেওয়া হবে না।

ইসরায়েলের কয়েকজন মন্ত্রী চুক্তির সমালোচনা করলেও ভ্যান্স তাদের কড়া ভাষায় জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, বাস্তবতা মেনে নেওয়ার সময় এসেছে। পাশাপাশি লেবাননের রাজধানী বৈরুতে বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা নিয়েও সতর্ক করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

তবে চুক্তি ঘোষণার পরও ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে, যা শান্তি প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

সূত্র: বিবিসি

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD