আমার ক্ষমতার কোনো সীমা নেই: ট্রাম্প

ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার ক্ষমতা প্রয়োগের সীমা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছিল, ডোনাল্ড ট্রাম্প তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। মার্কিন গণমাধ্যমের একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, তার ক্ষমতার কোনো সীমাবদ্ধতা নেই।
বিজ্ঞাপন
ইরান যুদ্ধের শুরুতে ট্রাম্প ইরানের কাছ থেকে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের দাবি জানান। তবে দীর্ঘ চার মাস ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর শেষ পর্যন্ত একটি সীমিত সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান ঘটে। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, এই যুদ্ধ যেন কোনোভাবেই বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার দিকে না যায়, সে কারণেই শেষ মুহূর্তে তিনি সমঝোতায় পৌঁছানোর সিদ্ধান্ত নেন।
তবে এই যুদ্ধ বা সমঝোতার অভিজ্ঞতা তাকে কিছুটা নমনীয় করেছে—এমন ধারণা পরিষ্কারভাবে নাকচ করে দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যুদ্ধ থেকে নিজের ক্ষমতার সীমা সম্পর্কে ঠিক কী শিখেছেন, সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘এখানে কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। আমি এখনো তেমন কোনো শিক্ষা পাইনি। আমি জানি সাধারণ নিয়মে সীমাবদ্ধতা থাকে, কিন্তু আমার ক্ষেত্রে কোনো সীমাবদ্ধতা নেই।’
বিজ্ঞাপন
চুক্তি নিয়ে ঘরে-বাইরে নানামুখী সমালোচনার জবাবে ট্রাম্প দাবি করেন, ‘আমরা তাদের (ইরান) সামরিকভাবে পুরোপুরি পরাজিত করেছি।’ এমনকি তার মতে, এই সমঝোতা স্মারকটিও একধরনের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ। চলমান এই যুদ্ধ বিশ্বমঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির শ্রেষ্ঠত্বই প্রমাণ করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, ‘এমন কঠোর অবরোধ আর কে দিতে পারত? আমি এমন এক নৌ অবরোধ দিয়েছিলাম, যেখানে একটি জাহাজও পার হতে পারেনি। কেউ কেউ চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তা বেশিক্ষণ টেকেনি।’
বিজ্ঞাপন
তবে সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এটিও স্বীকার করেন যে শেষ পর্যন্ত চুক্তি না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারত। ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান না নেওয়ার কারণে নিজের দলের ভেতরেই যে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে, তার জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি আরও কঠোর হতে পারতাম যদি আরও দুই বা তিন সপ্তাহ অনবরত বোমাবর্ষণ চালিয়ে যেতাম। কিন্তু তাতে লাভ কী হতো? কৌশলগত হরমুজ প্রণালি তখন আর খোলা থাকত না।’
তার ভাষায়, ‘মাসের পর মাস বিশ্ববাজারে তেল পাওয়া যেত না। যতক্ষণ বোমা পড়ত, প্রণালিটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ থাকত।’ আর এ ধরনের জ্বালানি সংকট পরিস্থিতি পুরো বিশ্বব্যাপী একটি বড় অর্থনৈতিক মন্দার কারণ হতে পারত বলেই তিনি বোমাবর্ষণ থামিয়ে চুক্তির পথে হেঁটেছেন বলে জানান।








