Logo

বিক্ষোভে উত্তাল আজাদ কাশ্মীর, নিহত ২৪

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২০ জুন, ২০২৬, ১৮:১৩
বিক্ষোভে উত্তাল আজাদ কাশ্মীর, নিহত ২৪
ছবি: সংগৃহীত

অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের দাবিতে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত আজাদ কাশ্মীরে চলমান বিক্ষোভ ক্রমেই সহিংস রূপ নিচ্ছে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (২০ জুন) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৪৭ সালে জম্মু-কাশ্মিরের দু’টি অঞ্চল দখল করে পাকিস্তান— আজাদ কাশ্মীর এবং গিলগিট-বাল্টিস্তান। দুটিই পাকিস্তানের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং দুটিতেই প্রাদেশিক আইনসভা বা বিধানসভা রয়েছে। আজাদ কাশ্মীরের বিধানসভায় আসনসংখ্যা ৪৫টি। সেই ৪২টি আসনের মধ্যে আবার ১২টি আসন ভারতের জম্মু-কাশ্মীর থেকে যাওয়া উদ্বাস্তুদের জন্য সংরক্ষিত।

বিজ্ঞাপন

এই সংরক্ষিত আসন ব্যবস্থা বাতিল এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর দাবিতে গত ৫ জুন আন্দোলন শুরু করে আজাদ কাশ্মীরভিত্তিক রাজনৈতিক সংগঠন জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ৯ জুন হরতালের ডাক দেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর থেকেই আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ শুরু হয়।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা সংঘর্ষে অন্তত ২৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এছাড়া বিক্ষোভে অংশগ্রহণ বা সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে এখন পর্যন্ত ৫১৫ জনকে আটক করা হয়েছে।

এছাড়া, বিক্ষোভকারীদের ছোড়া ইট-পাটকেলে গত প্রায় দুই সপ্তাহে ৯৭ জন পুলিশ কর্মকর্তা এবং বেশ কয়েকজন পুলিশসদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

আজাদ কাশ্মিরের পুলিশপ্রধান লিয়াকত আলী মালিক এএফপিকে বলেছেন, বিক্ষোভের মূল কেন্দ্র এখন রাওয়ালকোট শহর। এই শহরটি আজাদ কাশ্মীরের রাজধানী মুজাফফরাবাদ থেকে ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণে।

বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে কারফিউ জারি করেছে পুলিশ। শহরের মূল সড়কগুলো এবং ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে; ব্যাপকমাত্রায় সীমিত করা হয়েছে সংবাদমাধ্যমের উপস্থিতিও।

এদিকে বিক্ষোভ-সংঘর্ষ ও কারফিউয়ের কারণে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে আজাদ কাশ্মির। খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ তীব্রভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

মুহম্মদ মাসকিন নামে মুজাফফরাবাদের এক বাসিন্দা এএফপিকে বলেন, আমি ওষুধের জন্য গত কয়েকদিন ধরে ঘুরছি, এখনও পাইনি। এমনকি অনেক বড় ওষুধের দোকানগুলো পর্যন্ত বন্ধ। যেসব দোকান খোলা, সেগুলোর সরবরাহ শেষ হয়ে গেছে।

সাবার হোসেন নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, গত আটদিন ধরে আমরা খুব কঠিন সময় পার করছি। বাজারগুলো বন্ধ আছে। শাক-সবজি ছাড়া কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD