Logo

দেশভাগ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য নরেন্দ্র মোদির

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২১ জুন, ২০২৬, ১৫:৫৪
দেশভাগ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য নরেন্দ্র মোদির
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি | ফাইল ছবি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দাবি করেছেন, দেশভাগের সময় অবিভক্ত বাংলাকে পাকিস্তানের অংশ করার একটি ‘সুনির্দিষ্ট ষড়যন্ত্র’ হয়েছিল। একই সঙ্গে তিনি বলেন, রক্তপাত ও দেশভাগের ট্র্যাজেডির মধ্যেও বাংলা তার নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয় ও ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (২০ জুন) পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত রাজ্য অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্ট।

মোদি পশ্চিমবঙ্গ গঠনের আন্দোলনে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির ভূমিকার কথা তুলে ধরেন এবং পরবর্তী সময়ের সরকারগুলোর বিরুদ্ধে সেই ইতিহাস আড়াল করার অভিযোগ করেন। তার দাবি, দেশভাগের আগে পুরো অবিভক্ত বাংলাকে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করার একটি গভীর চক্রান্ত চলছিল এবং সে সময় কংগ্রেস সেই ‘চক্রান্তকারীদের কাছে নতি স্বীকার করেছিল’।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি ‘বাঙালি হিন্দু হোমল্যান্ড’ আন্দোলনের মাধ্যমে এর বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলেন। এই আন্দোলনে বিজ্ঞানী মেঘনাদ সাহা, ইতিহাসবিদ আর সি মজুমদার, যদুনাথ সরকার, ভাষাবিদ সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়সহ বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, এমনকি শিল্পপতি জি ডি বিড়লা ও মতুয়া নেতা পি আর ঠাকুরও যুক্ত ছিলেন।

মোদির ভাষ্য অনুযায়ী, এই আন্দোলনের কারণে অবশেষে পুরো বাংলাকে ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা সফল হয়নি এবং পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অংশ হিসেবেই থেকে যায়।

১৯৪৬ সালের কলকাতার দাঙ্গা এবং নোয়াখালীর সহিংসতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওই সময় বহু নিরীহ মানুষ প্রাণ হারান। তবে দেশভাগের সেই ভয়াবহ অধ্যায়ের পরও বাংলা তার সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য ধরে রাখতে পেরেছে।

বিজ্ঞাপন

পশ্চিমবঙ্গ দিবসকে ইতিহাস মনে করিয়ে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে উল্লেখ করে মোদি বলেন, নতুন প্রজন্মের এসব ইতিহাস জানা প্রয়োজন। তার মতে, ২০ জুন শুধু একটি তারিখ নয়, এটি বাংলার ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের স্মারক।

বক্তব্যে কংগ্রেস, বামফ্রন্ট ও তৃণমূল কংগ্রেসকে একসঙ্গে আক্রমণ করে মোদি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক স্বার্থে পশ্চিমবঙ্গ দিবসের গুরুত্ব ইচ্ছাকৃতভাবে কমিয়ে দেখানো হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, অতীতের প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণে রাজ্যের অর্থনীতি দুর্বল হয়েছে, শিল্প কমেছে এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন

সূত্র: দ্য প্রিন্ট

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD