ভূমিকম্পের দুই দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে গোঙানির শব্দ

ধ্বংসাত্মক জোড়া ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলায় ধসে পড়া একটি ভবনের নিচ থেকে দুই দিন পর এক যুবকের গোঙানির শব্দ শোনার দাবি করেছেন তার স্বজনরা। এ ঘটনার পর তাকে জীবিত উদ্ধারের আশায় পরিবারের সদস্যরা নিজ হাতে ধ্বংসস্তূপ সরানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (২৭ জুন) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩১ বছর বয়সী কার্লোস এদোয়ার্দো ভূমিকম্পের সময় ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন। দুর্ঘটনার পর থেকে টানা দুই দিন ধরে পরিবারের সদস্যরা তাকে জীবিত উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে গেলেও এখনও তার কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
বিজ্ঞাপন
কার্লোসের এক চাচাতো ভাই বিবিসিকে জানান, কিছু সময়ের জন্য তারা ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে তার গোঙানির শব্দ শুনতে পান। তবে তিনি কোনো কথা বলতে পারেননি।
তার ভাষ্য, প্রায় দেড় ঘণ্টা আগে তারা শব্দটি শুনেছিলেন। যদিও কার্লোস কোনো কথা বলেননি, শুধু গোঙানির মতো শব্দ করেছিলেন। এরপর থেকে তিনি আর কোনো সাড়া দেননি। এতে পরিবারের উদ্বেগ আরও বেড়ে গেছে।
পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি উদ্ধারকারী দলকে জানালে স্পেনের একটি বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অনুসন্ধান চালায়। তারা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অনুসন্ধানী কুকুর ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপে জীবিত মানুষের উপস্থিতি খুঁজে দেখার চেষ্টা করে।
বিজ্ঞাপন
তবে উদ্ধারকারী দল তাদের অনুসন্ধানে জীবনের কোনো নিশ্চিত চিহ্ন শনাক্ত করতে পারেনি। অভিযান শেষ করে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
তবুও কার্লোসের স্বজনরা আশাহত হননি। তারা বিশ্বাস করছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও তিনি জীবিত থাকতে পারেন। সেই আশায় ভারী যন্ত্রপাতির অপেক্ষা না করে নিজেরাই হাতে হাতে ইট, পাথর ও কংক্রিট সরিয়ে উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।
বিজ্ঞাপন
পরিবারের সদস্যদের আশা, সময়মতো ধ্বংসস্তূপ সরানো সম্ভব হলে কার্লোসকে জীবিত উদ্ধার করা যাবে।
এদিকে ভয়াবহ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় এখনও উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো ধসে পড়া বিভিন্ন স্থাপনায় আটকে পড়াদের সন্ধানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।








