Logo

শেখ মুহাম্মদ হুসাইনকে আল-আকসায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ইসরায়েলের

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১১ জুলাই, ২০২৬, ১৬:৩৯
শেখ মুহাম্মদ হুসাইনকে আল-আকসায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ইসরায়েলের
ছবি: সংগৃহীত

অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে জেরুজালেম ও ফিলিস্তিনের গ্র্যান্ড মুফতি শেখ মুহাম্মদ হুসাইনের প্রবেশ এক সপ্তাহের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার জুমার খুতবা দেওয়ার পর তাকে আটক করা হয় এবং পরে মুক্তি দেওয়া হলেও আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। প্রয়োজনে এই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও বাড়ানো হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

জেরুজালেম গভর্নরেট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, জুমার নামাজের খুতবা শেষে ইসরায়েলি বাহিনী শেখ মুহাম্মদ হুসাইনকে আটক করে। কিছু সময় পর তাকে মুক্তি দেওয়া হলেও এক সপ্তাহের জন্য আল-আকসা মসজিদে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেওয়া হয়। এটি তার বিরুদ্ধে নেওয়া এমন প্রথম পদক্ষেপ নয় বলেও উল্লেখ করেছে গভর্নরেট।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, খুতবার বক্তব্যের বিষয়বস্তুকে কেন্দ্র করেই তাকে আটক করা হয়। খুতবায় শেখ মুহাম্মদ হুসাইন ইসরায়েলি হামলায় নিহত ফিলিস্তিনিদের জন্য দোয়া করেন এবং ইসরায়েলি কারাগারে আটক ফিলিস্তিনিদের মুক্তি ও তাদের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা জানান। এর পরপরই নিরাপত্তা বাহিনী তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যায়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

জেরুজালেম গভর্নরেট জানিয়েছে, শেখ মুহাম্মদ হুসাইনের বিরুদ্ধে জারি করা আদেশে এক সপ্তাহের জন্য আল-আকসায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় এই নিষেধাজ্ঞা নবায়নের সুযোগও রাখা হয়েছে। অতীতেও তার বিরুদ্ধে একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল বলে জানানো হয়।

বিজ্ঞাপন

তবে শেখ মুহাম্মদ হুসাইনের আটক কিংবা তার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের নিরাপত্তামূলক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে পশ্চিম তীরে অভিযান, গ্রেপ্তার, বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং বিভিন্ন বিধিনিষেধ নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু রয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা দাবি করছে, সামরিক অভিযান, বসতি স্থাপনকারীদের হামলা এবং নিয়ন্ত্রণ সম্প্রসারণের ফলে ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার পশ্চিম তীরের নাবলুস অঞ্চলের হুওয়ারা এলাকায় বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় কয়েকজন ফিলিস্তিনি আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, একটি ফিলিস্তিনি পরিবারের ওপর হামলার সময় শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরাও আহত হন। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা মরিচের স্প্রে ব্যবহার ও শারীরিক নির্যাতন চালায়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে ইসরায়েলি বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও তারা হামলাকারীদের ঠেকানোর পরিবর্তে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখেননি। বরং পরে ওই পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৮০ বছর বয়সী ইব্রাহিম ইসমাইল আল-জাবুরও রয়েছেন বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এদিকে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে সহিংসতা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে। সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা তাদের প্রতিবেদনে অভিযোগ করেছে, ওই অঞ্চলে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে জনসংখ্যাগত পরিবর্তন ঘটানোর মতো কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়; বরং রাষ্ট্রীয় নীতির অংশ হিসেবেই এগুলো পরিচালিত হচ্ছে বলে তাদের মূল্যায়ন।

বিজ্ঞাপন

সব মিলিয়ে আল-আকসা মসজিদে গ্র্যান্ড মুফতির প্রবেশ নিষিদ্ধের ঘটনা এমন এক সময় ঘটল, যখন জেরুজালেম ও অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং মানবাধিকার ইস্যু আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করছেন পর্যবেক্ষকরা।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD