Logo

কখনো মেয়ে, কখনো ভাতিজি—নিজের স্ত্রীকে এভাবেই বিয়ে দিতেন স্বামী

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৮:৫১
কখনো মেয়ে, কখনো ভাতিজি—নিজের স্ত্রীকে এভাবেই বিয়ে দিতেন স্বামী
ছবি: সংগৃহীত

নিজের স্ত্রীকেই কখনো ভাতিজি, আবার কখনো নিজের মেয়ে পরিচয়ে পাত্রপক্ষের সামনে হাজির করতেন এক ব্যক্তি। এরপর ওই নারীর সঙ্গে বিয়ে হয়ে গেলে কিছুদিন পর নতুন বরের বাড়ি থেকে টাকা-পয়সা ও সোনার গহনা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে যেতেন তিনি। এমন কৌশলে একাধিক পরিবারকে প্রতারণার অভিযোগে ওই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) নববিবাহিত এক ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে ওই প্রতারক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার দেগঙ্গা থানার এলাকায় ঘটেছে এ ঘটনা। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

অভিযোগকারী ব্যক্তি পুলিশকে জানান, তার সঙ্গে যে নারীর বিয়ে হয়েছে, তাকে বিয়ের সময় এক বৃদ্ধ নিজের ভাতিজি বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। কিন্তু বিয়ের এক মাসের মধ্যেই তিনি জানতে পারেন, ওই নারী আগে থেকেই বিবাহিত। এরপর তিনি বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর শুরু করেন। একপর্যায়ে জানতে পারেন, যিনি বিয়ের সময় পাত্রীকে নিজের ভাতিজি বলে পরিচয় দিয়ে কন্যা সম্প্রদান করেছিলেন, তিনিই আসলে ওই নারীর স্বামী। এরপর ওই ব্যক্তি তার নববধূ এবং তার প্রকৃত স্বামীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন।

পুলিশ জানায়, ওই দম্পতি আগেও পাত্রপক্ষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ, সোনার গহনা হাতানোর উদ্দেশে এমন কৌশলে লোক ঠকিয়েছেন। কিন্তু এতদিন ধরা পড়েননি। আবার ভুক্তভোগী অনেকে লোকলজ্জার ভয়ে পুলিশের কাছেও আসেননি।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা যায়, দেগঙ্গার এক ব্যক্তি পাত্রীর খোঁজে ছিলেন। পরে ঘটকের মাধ্যমে এক যুবতীর খোঁজ পান তিনি। ছবি দেখে পাত্রী পছন্দ করেন। প্রায় এক মাস আগে একটি মন্দিরে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় পাত্রীকে আশীর্বাদ করেন তারা চাচা, যিনি আসলে তার স্বামী। কন্যা সম্প্রদানও তিনিই করেন। ওই ‘চাচা’ জানিয়েছিলেন পাত্রী তার একমাত্র ভাতিজি। পরিবারে তাদের আর কেউ নেই বলেও জানান তিনি।

তবে, কিছুদিন যেতে না যেতেই নতুন বরের সন্দেহ হয়। তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, তার নববধূ এরইমধ্যে বিবাহিতা। যিনি কন্যা সম্প্রদান করেছেন তিনিই ওই যুবতীর স্বামী। শুধু তাই নয়, ওই দম্পতির দুই মেয়ে রয়েছে। তাদের বিয়েও হয়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। অভিযুক্তদের ডেকে পাঠান স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যরা। কিন্তু, ওই দম্পতি অভিযোগ অস্বীকার করেন। এদিকে অভিযোগকারী পুলিশের দ্বারস্থ হন।

তদন্তে নেমে অভিযোগের সত্যতা পায় দেগঙ্গা থানার পুলিশ। অভিযুক্তরা স্বীকার করেন যে, তারা স্বামী-স্ত্রী।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি এর আগেও নিজের স্ত্রীকে কখনো ভাতিজি আবার কখনো নিজের মেয়ে হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন পাত্রপক্ষের সামনে হাজির করেছেন। এরপর নানা কৌশলে একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে স্ত্রীর বিয়ে দিয়েছেন তিনি। বিয়ের পর সুযোগ বুঝে প্রতিবারই নতুন বরের পরিবার থেকে টাকা-পয়সা, সোনার গহনা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে যেতেন ওই দম্পতি।

বিজ্ঞাপন

আরও জানা যায়, বেশ কয়েকটি পরিবারকে এই দম্পতি পরিকল্পনা করে প্রতারিত করেছেন। তবে, এবার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরবর্তীতে তাদের বারাসত মহকুমা আদালতে হাজির করা হয়।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD