হুতিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি সহায়তা নিলেও সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে না সৌদি

ইয়েমেনের হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইসরায়েলের কাছ থেকে গোয়েন্দা সহায়তা নিচ্ছে সৌদি আরব—এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমে। তবে এই সহায়তা নেওয়ার অর্থ ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে সৌদি আরব অবস্থান নরম করছে—এমন ধারণা সঠিক নয় বলে জানিয়েছে দেশটির একটি সূত্র।
বিজ্ঞাপন
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম কান নিউজের বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) মধ্যস্থতায় সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মধ্যে গোয়েন্দা সহায়তা নিয়ে যোগাযোগ হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলায় সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
তবে সৌদি সূত্রের বরাতে কান নিউজ জানিয়েছে, ইসরায়েলের কাছ থেকে সহায়তা নেওয়ার কারণে দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে সৌদি আরব কোনো শর্তে ছাড় দেবে না।
ওই সূত্রের ভাষ্য, ‘যে ধারণা করা হচ্ছে… ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকে সৌদি শর্ত নমনীয় হবে, এটি ভুল ধারণা।’
বিজ্ঞাপন
সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে তীব্র হয়েছে। হুতিরা সৌদি ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। একই সময়ে সৌদি আরবও ইয়েমেনে হুতিদের অবস্থানে বিমান হামলা চালাচ্ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এরই মধ্যে সৌদি আরব দাবি করেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মক্কার আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই হুতিদের একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি বলেছেন, ড্রোনটি মক্কার দক্ষিণে বাধা দিয়ে ধ্বংস করা হয়।
বিজ্ঞাপন
তবে হুতিরা মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ফলে ঘটনাটি নিয়ে সৌদি ও হুতিদের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী।
আকাশ প্রতিরক্ষায় সহায়তা চাইছে সৌদি
হুতিদের সঙ্গে সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরবের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী অস্ত্রের মজুত কমে আসছে বলে একাধিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিসরের কাছে আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তা চেয়েছে রিয়াদ।
বিজ্ঞাপন
তবে এখন পর্যন্ত এসব দেশের কোনোটি সৌদিকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।
সৌদি আরবের জন্য হুতিদের হামলার অন্যতম বড় ঝুঁকি হলো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও জ্বালানি স্থাপনা। দেশটির তেল অবকাঠামো এবং সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হুতিদের অগ্রযাত্রায় কৌশলগত বাব আল-মান্দাব প্রণালির নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এ অবস্থায় সৌদি আরব একদিকে হুতিদের হামলা মোকাবিলায় সামরিক ও গোয়েন্দা সহায়তা খুঁজছে, অন্যদিকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্ভাব্য সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের প্রশ্নে নিজেদের অবস্থান অপরিবর্তিত রাখার বার্তা দিচ্ছে।








