হুথিদের সঙ্গে বৈঠকের পর সৌদিকে সহায়তা করবে না যুক্তরাষ্ট্র

ওমানের রাজধানী মাস্কাটে হুথি নেতাদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের পর ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা না দেওয়ার অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাস্কাটের বৈঠকে হুথিরা যুক্তরাষ্ট্রকে আশ্বস্ত করেছে, লোহিত সাগরের বাব এল-মান্দেব দিয়ে চলাচলকারী মার্কিন জাহাজে তারা হামলা চালাবে না। পাশাপাশি ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া যুদ্ধবিরতিও ভঙ্গ করার পরিকল্পনা নেই বলে জানায় তারা।
হুথি সূত্রের দাবি, লোহিত সাগরে তাদের সামরিক কর্মকাণ্ডের লক্ষ্য থাকবে সৌদি-সংশ্লিষ্ট জাহাজ। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও হুথিদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের বিষয়টি বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে আসে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
দ্য গার্ডিয়ান বলছে, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে বড় ধরনের সামরিক সম্পদ ব্যবহার করছে। ফলে ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে নতুন করে সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়ানোর বিষয়ে ওয়াশিংটনের আগ্রহ কম। যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারে চাপ তৈরি হওয়ার কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
এর ফলে হুথিদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সৌদি আরবের ওপর নিজস্ব বা আঞ্চলিক সামরিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করার চাপ বাড়ছে। বিকল্প হিসেবে কূটনৈতিকভাবে হুথিদের সঙ্গে সমাধানের চেষ্টা কিংবা তুরস্ক ও পাকিস্তানের মতো আঞ্চলিক দেশগুলোর সহযোগিতা নেওয়ার বিষয়টি সামনে আসছে।
এদিকে গত শুক্রবার দ্রুতগতির অভিযানে হুথিরা লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা দখল করে। এর মাধ্যমে বাব এল-মান্দেব প্রণালির আশপাশে তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার হয়েছে। কৌশলগত এই জলপথটি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থল এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
হুথিদের অগ্রযাত্রায় সৌদি আরবের তেল রপ্তানি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুথিদের সাম্প্রতিক অগ্রগতি বাব এল-মান্দেবের মতো গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে সৌদির জন্য নতুন কৌশলগত ঝুঁকি তৈরি করেছে।
এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরব এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশের কাছে আকাশ প্রতিরক্ষা ও সামরিক সহায়তা চেয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিকভাবে হুথিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্ত না হওয়ার অবস্থান নেওয়ায় রিয়াদের সামনে কূটনৈতিক ও আঞ্চলিক সমাধানের পথও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।








