Logo

নতুন শুল্ক ইস্যুতে এবার যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা দিল ভারত

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৬:৫৩
নতুন শুল্ক ইস্যুতে এবার যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা দিল ভারত
ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে শুল্ক আরোপ করলে তা ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছে নয়াদিল্লি। একই সঙ্গে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে ভারতীয় সরকার।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ অবস্থান জানায়। এর কয়েক ঘণ্টা আগে রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ একটি বিস্তৃত নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কসংক্রান্ত বিল পাস করে। বিলটি এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে।

বিলটিতে রাশিয়ার জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাত, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও দেশটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহনে ব্যবহৃত কথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমাতে বিভিন্ন দেশের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়ার বিধান রয়েছে। ভারত ও চীনের মতো বড় রুশ জ্বালানি ক্রেতারা এ ব্যবস্থার আওতায় পড়তে পারে।

ভারতের কড়া বার্তা

বিজ্ঞাপন

বিলটি পাসের পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দেশের ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নয়াদিল্লি দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ের আলোচনায় রাশিয়ার তেল কেনার বিষয়টি ভারত তুলে ধরেছে বলেও জানানো হয়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, রুশ তেল কেনার ওপর সম্ভাব্য মার্কিন পদক্ষেপের প্রভাব শুধু দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে। নিজেদের বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

বিজ্ঞাপন

ভারত আরও জানিয়েছে, সম্ভাব্য নতুন মার্কিন পদক্ষেপের প্রভাব মোকাবিলায় সরকার দেশের বাণিজ্য ও শিল্প খাতের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে কাজ করবে।

রাশিয়ার তেলের ওপর ভারতের নির্ভরতা

বিশ্বের অন্যতম বড় জ্বালানি আমদানিকারক ভারত রাশিয়ার তেলেরও বড় ক্রেতা। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর পশ্চিমা দেশগুলো মস্কোর ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এরপর তুলনামূলক কম দামে রুশ অপরিশোধিত তেল বাজারে আসায় ভারতীয় পরিশোধনাগারগুলো রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বাড়ায়।

বিজ্ঞাপন

নয়াদিল্লি দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, বিপুল জনসংখ্যা ও দ্রুত সম্প্রসারিত অর্থনীতির জ্বালানি চাহিদা মেটাতে নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য সরবরাহ প্রয়োজন। এ কারণে রাশিয়া থেকে তেল কেনার বিষয়ে পশ্চিমা চাপের মধ্যেও ভারত নিজেদের জ্বালানি নীতি বজায় রেখেছে।

তবে ভারত জানিয়েছে, তারা কোনো একটি দেশের ওপর নির্ভরশীল না থেকে বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করবে এবং বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় সরবরাহের উৎস নির্ধারণ করবে।

শুল্ক এখনো কার্যকর হয়নি

বিজ্ঞাপন

মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি পাস হওয়া মানেই ভারতের ওপর তাৎক্ষণিকভাবে ১০০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়ে যাওয়া নয়। বিলটি এখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে। এরপর কোন দেশ বা পণ্যের ওপর কী মাত্রায় শুল্ক আরোপ করা হবে, তা মার্কিন প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি ২৬২-১৫৯ ভোটে পাস হয়েছে। এর আগে মার্কিন সিনেটেও বিলটি অনুমোদিত হয়েছিল।

ভারত-মার্কিন বাণিজ্যেও প্রভাবের আশঙ্কা

বিজ্ঞাপন

নতুন পদক্ষেপটি এমন সময়ে এসেছে, যখন ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা চলছে। ফলে রাশিয়ার তেল কেনাকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য মার্কিন শুল্ক দুই দেশের বৃহত্তর বাণিজ্যিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় পরিশোধনাগারগুলো সম্ভাব্য বাড়তি ব্যয় ও সরবরাহসংক্রান্ত অনিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।

এ অবস্থায় রাশিয়ার তেল আমদানি, জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক—এই তিনটি বিষয় কীভাবে সামলায় নয়াদিল্লি, সেটিই সামনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD