রাশিয়াকে ঠেকাতে ইউক্রেনের রেকর্ড পরিমাণ প্রতিরক্ষা ব্যয়ের পরিকল্পনা

রাশিয়ার আগ্রাসন মোকাবিলায় আগামী বছরে প্রতিরক্ষা খাতে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের পরিকল্পনা করছে ইউক্রেন। দেশটির সরকার জানিয়েছে, আগামী অর্থবছরে মোট ব্যয়ের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ অর্থ প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ করা হবে। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলেও মস্কোর দীর্ঘমেয়াদী সামরিক অভিযানের কারণে কিয়েভের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
যুদ্ধের ফলে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং দেশটির আর্থিক কাঠামোয় বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। শুরুতে ইউক্রেন নিজস্ব আয় থেকেই প্রতিরক্ষা ব্যয় নির্বাহ করলেও পরবর্তী সময়ে এই খরচের বড় অংশ বিদেশি সহায়তাকারীদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
ইউক্রেন সরকার আগামী বছর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন উৎস থেকে অতিরিক্ত ৫৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশি সহায়তা সংগ্রহের উদ্যোগ নিচ্ছে। গত মঙ্গলবার প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দেশটির অর্থমন্ত্রী সের্গেই মারচেঙ্কো বলেন, ২০২৭ সালের খসড়া বাজেটটি এমন এক সময়ে প্রণয়ন করা হয়েছে যখন রুশ আগ্রাসন এখনো চলমান। এই পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, নিঃসন্দেহে এটিই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আগ্রাসী শক্তিকে কার্যকরভাবে প্রতিহত করার সক্ষমতা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের সম্ভাব্য সব অভ্যন্তরীণ সম্পদকে এই খাতে কাজে লাগানো হচ্ছে। সরকারি নথিপত্র অনুযায়ী, ইউক্রেন ২০২৭ সালে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা খাতে রেকর্ড ৪.৯ ট্রিলিয়ন রিভনিয়া (১০৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) ব্যয়ের পরিকল্পনা করছে। এটি তাদের জিডিপির প্রায় ৪৪ শতাংশ এবং ২০২২ সালে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ব্যয়ের রেকর্ড।
এতে আরও বলা হয়, এই অর্থের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ব্যয় হবে সেনাদের বেতন-ভাতার জন্য এবং বাকি অর্থ মূলত অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহের কাজে ব্যবহূত হবে। অন্যদিকে রাশিয়া আগামী বছরে প্রতিরক্ষা খাতে প্রায় ১৩.৬ ট্রিলিয়ন রুবল (১৬১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে, যা তাদের মোট বাজেটের প্রায় ৩০ শতাংশ।
মঙ্গলবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিদেশি অর্থায়ন আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে পার্লামেন্টকে কিছু ‘অপ্রীতিকর ও অজনপ্রিয়’ পদক্ষেপ অনুমোদন করতে হবে। এর মধ্যে বিদেশ থেকে আসা পার্সেল বা ডাকযোগে আসা পণ্যের ওপর কর আরোপের বিষয়টি উল্লেখে করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
জেলেনস্কি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব পদক্ষেপ ছাড়া আমাদের প্রতিরক্ষা খাতের পূর্ণ চাহিদা পূরণ এবং ইউক্রেনের টিকে থাকার সক্ষমতা বজায় রাখা অসম্ভব। ২০২২ সালে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ইউক্রেন তার বিদেশি অংশীদারদের কাছ থেকে প্রায় ২০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়ন এবং বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা পেয়েছে।
সূত্র: এএফপি।








