হোয়াইট হাউজের পর এবার নিউইয়র্কে ট্রাম্প-মামদানি

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থানের দুই নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জোহরান মামদানি। বিভিন্ন ইস্যুতে একে অপরের সমালোচনা করলেও নিউইয়র্কের মেয়র হওয়ার পর মামদানির সঙ্গে আবারও বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন ট্রাম্প। এবার নিউইয়র্কে মুখোমুখি হচ্ছেন তারা।
বিজ্ঞাপন
এর আগে মামদানি গিয়েছিলেন হোয়াইট হাউজে এবং সেখানে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। এবার সেই সাক্ষাৎ হতে যাচ্ছে মামদানির নিজের শহর নিউইয়র্কে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের গ্রেসি ম্যানশনে ট্রাম্প ও মামদানির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। স্থানীয় সময় অনুযায়ী, বৈঠকে নিউইয়র্ক শহর ও এর বাসিন্দাদের ওপর প্রভাব ফেলে এমন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। হোয়াইট হাউজ ও নিউইয়র্ক মেয়রের দপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে।
মামদানির দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৈঠকে নিউইয়র্ক শহর ও নিউইয়র্কবাসীর প্রয়োজন এবং নগরীর ওপর প্রভাব ফেলে এমন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে। তবে বৈঠকের বিস্তারিত আলোচ্যসূচি সম্পর্কে এর বাইরে নির্দিষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি।
রাজনৈতিকভাবে ট্রাম্প ও মামদানি দুই মেরুর হলেও সাম্প্রতিক সময়ে তাদের সম্পর্ক বেশ সৌহার্দ্যপূর্ণ। চলতি বছরের শুরুতে হোয়াইট হাউজে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন মামদানি। পরে, ওই বৈঠককে ‘ফলপ্রসূ’ বলে বর্ণনা করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
আগের বৈঠকগুলোতে নিউইয়র্কে আবাসন নির্মাণ বাড়ানোসহ নগরীর বিভিন্ন প্রয়োজন নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। নিউইয়র্ক শহর দুজনের সঙ্গেই সরাসরি যুক্ত—ট্রাম্পের দীর্ঘ রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক পরিচিতির শহর এটি, আর মামদানি বর্তমানে এই শহরের মেয়র।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরের হোয়াইট হাউজের বৈঠকের পর মামদানির প্রশংসাও করেছিলেন ট্রাম্প। তবে তার আগে মেয়র নির্বাচনের প্রচারের সময় মামদানিকে নিয়ে প্রকাশ্যে কঠোর সমালোচনাও করেছিলেন তিনি। ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাথমিক নির্বাচনে সাবেক নিউইয়র্ক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুওমোর বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়ে মামদানি প্রার্থী হিসেবে উঠে আসেন এবং পরে মেয়র নির্বাচনে জয়ী হন।
বিজ্ঞাপন
সাবেক নিউইয়র্ক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুওমোর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রচার চালিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে উঠে আসা মামদানিকে ট্রাম্প ‘কমিউনিস্ট’ বলেও মন্তব্য করেছিলেন।
ওই বৈঠকের সময় ওভাল অফিসে মামদানির পাশে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি আশা করেন মামদানি একজন ভালো মেয়র হবেন। মামদানি যত ভালো করবেন, তিনি তত বেশি খুশি হবেন বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
দলীয় পরিচয় বা অন্য কোনো পার্থক্যকে গুরুত্ব না দিয়ে নিউইয়র্ককে শক্তিশালী ও নিরাপদ শহর হিসেবে গড়ে তুলতে মামদানিকে সহযোগিতা করার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
গত বছর মামদানি মেয়র নির্বাচনে জয় পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাথমিক নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট ও বামঘেঁষা বেশ কয়েকজন প্রার্থী জয় পেয়েছেন। একই সময়ে নিউইয়র্কের মেয়র হিসেবে মামদানি দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রের আলোচিত ডেমোক্রেটিক নেতাদের একজন হয়ে উঠেছেন। তবে, ডানপন্থীদেরও অন্যতম নিশানা হয়েছেন তিনি।
সূত্র: দ্য হিল








