ইরানের আকাশে অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তু, রহস্য ঘিরে তোলপাড়

ইরানের রাজধানী তেহরানের আকাশে রহস্যময় একটি উড়ন্ত বস্তু দেখা যাওয়ার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক এসব ভিডিওতে উজ্জ্বল ও বহুরঙা আলোযুক্ত একটি বস্তু রাতের আকাশে ভেসে বা ধীরে ধীরে চলতে দেখা যায়। ভিডিওগুলো ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে নানা ধরনের আলোচনা ও জল্পনা তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে কেউ এটিকে অজ্ঞাত উড়ন্তযান, কেউ ড্রোন, আবার কেউ বিমান বা অন্য কোনো উড়ন্ত বস্তু বলে ধারণা করছেন। তবে ভিডিওতে দেখা বস্তুটির প্রকৃত পরিচয়, উচ্চতা, গতি বা আকার এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ইরানি কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রকাশ্যে দেয়নি।
নতুন এই দৃশ্য তেহরানের আকাশে প্রায় ৫০ বছর আগে ঘটে যাওয়া একটি বহুল আলোচিত ঘটনার স্মৃতিও ফিরিয়ে এনেছে। ১৯৭৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর তেহরানের আকাশে রহস্যময় উজ্জ্বল বস্তু দেখার পর ইরানের বিমানবাহিনী দুটি এফ-৪ যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছিল। ঘটনাটি পরে মার্কিন সরকারের গোপনীয়তামুক্ত নথিতেও উঠে আসে।
তেহরানের ১৯৭৬ সালের ইউএফও রহস্য
বিজ্ঞাপন
সময়টা এই রহস্যকে আরও গভীর করে তুলেছে। ১৯৭৬ সালেও এই সেপ্টেম্বর মাসের ১৯ তারিখই তেহরানের আকাশে এক আকাশযান সংক্রান্ত ঘটনা ঘটে। সেটি পরে নথিভুক্তও হয়েছে। তার প্রায় পঞ্চাশ বছর পর সামনে এলো এই নতুন ফুটেজ।
সেই ঘটনার শুরু হয়েছিল শেমিরান এলাকার বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্য থেকে। তারা জানিয়েছিলেন আকাশে অদ্ভুত এক উজ্জ্বল বস্তু দেখেছেন তারা।
পরে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের একটি গোপনীয়তামুক্ত প্রতিবেদনে ইম্পেরিয়াল ইরানিয়ান বিমানবাহিনী এবং দুটি এফ-৪ ফ্যান্টম যুদ্ধবিমানের প্রতিক্রিয়ার বিবরণ নথিভুক্ত করা হয়।
বিজ্ঞাপন
সেই প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম এফ-৪ বিমানটি বস্তুটির কাছাকাছি পৌঁছালে এর যন্ত্রপাতি এবং যোগাযোগব্যবস্থা বিকল হয়ে পড়ে। জানা যায়, পাইলট বিমানটি ঘুরিয়ে নেওয়ার পর এসব সিস্টেম আবার কাজ করা শুরু করে। এরপর তদন্তের জন্য পাঠানো হয় দ্বিতীয় একটি এফ-৪ বিমান। রাডারে বস্তুটি শনাক্তও করে সেই বিমান।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
দ্বিতীয় বিমানের ক্রুরা আরেকটি অস্বাভাবিক ঘটনার কথা জানান। তাদের মতে, মূল বস্তুটি থেকে একটি ছোট অংশ আলাদা হয়ে যায়। পাইলট সেটির মোকাবিলা করার চেষ্টা করলে ঠিক সেই মুহূর্তে বিমানের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং যোগাযোগব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ে বলে জানা যায়।
বিজ্ঞাপন
১৯৭৬ সালের এই ঘটনা পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নথিতে লিপিবদ্ধ হয়। সামরিক বিমান জড়িত ইউএফও সংক্রান্ত ইতিহাসের সবচেয়ে পরিচিত ঘটনাগুলোর একটি হিসেবেই এখনো বিবেচিত হয় এটি।
নতুন ভিডিও ঘিরে নানা জল্পনা
সাম্প্রতিক ভিডিওগুলোতে দেখা আলোকিত বস্তুটি কী, তা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নানা মত দেখা যাচ্ছে। কেউ এটিকে সামরিক ড্রোন বা একাধিক ড্রোনের আলো বলে ধারণা করছেন। আবার কেউ বিমান কিংবা ইউএফও হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলছেন। তবে এসব ধারণার কোনোটিই এখন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।
বিজ্ঞাপন
ভিডিওগুলো নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নানা রসিক প্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে। কেউ বস্তুটিকে আলাদিনের উড়ন্ত গালিচার সঙ্গে তুলনা করেছেন, আবার কেউ চীনের এলইডি বাতির সঙ্গে মিল খুঁজেছেন। এমনকি কেউ মজা করে এটিকে নারী এলিয়েনের রঙিন নভোযান বলেও মন্তব্য করেছেন।
আরেকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী রসিকতা করে বলেছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি আলোচনার জন্য হয়তো এলিয়েনরাই এসেছে। কেউ আবার প্রশ্ন তুলেছেন, এলিয়েনরা যদি সত্যিই হয়ে থাকে, তাহলে তাদের উড়ন্তযানে এত সস্তা আরজিবি আলো কেন ব্যবহার করা হচ্ছে।
তবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব মন্তব্যের বাইরে এখন পর্যন্ত বস্তুটির প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করার মতো কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে তেহরানের আকাশে দেখা সাম্প্রতিক আলো আপাতত একটি অমীমাংসিত রহস্য হিসেবেই রয়ে গেছে।








