চড়া দামে এলএনজি মজুত করছে ইউরোপ, বিপাকে এশিয়া

স্পট মার্কেটে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম বাড়তে থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সরবরাহ নিয়ে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। উচ্চমূল্যের কারণে এশিয়ার কয়েকটি দেশ স্পট মার্কেট থেকে কেনাকাটা কমিয়ে দিলেও শীত মৌসুমের আগে মজুত বাড়াতে ইউরোপীয় ক্রেতারা তুলনামূলক বেশি দামে এলএনজি সংগ্রহ করছে।
বিজ্ঞাপন
পণ্যবাজার বিশ্লেষক সংস্থা কেপলারের হিসাবে, সেপ্টেম্বর মাসে এশিয়ায় এলএনজি আমদানি প্রায় ২০.০৯ মিলিয়ন টনে নেমে আসতে পারে। গত বছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল প্রায় ২২.২৭ মিলিয়ন টন এবং আগস্টেও ছিল প্রায় ২২.২৫ মিলিয়ন টন। উচ্চমূল্য ও সরবরাহ অনিশ্চয়তার কারণে এশিয়ার কয়েকটি বাজারে চাহিদা কমেছে।
অন্যদিকে, শীতের আগে গ্যাসের মজুত বাড়াতে ইউরোপে এলএনজির চাহিদা বাড়ছে। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে ইউরোপে এলএনজি আমদানি প্রায় ৮ মিলিয়ন টনে পৌঁছাতে পারে এবং পরবর্তী মাসগুলোতে তা ১০ মিলিয়ন টনের ওপরে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। ইউরোপের গ্যাস মজুতও শীতের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বাড়ানো হচ্ছে।
এলএনজির বাজারে বর্তমান অস্থিরতার অন্যতম কারণ হরমুজ প্রণালির সংকট। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে বৈশ্বিক এলএনজি সরবরাহের বড় একটি অংশ পরিবহন হয়। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে হরমুজ দিয়ে এলএনজি পরিবহন দীর্ঘ সময় ধরে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম রয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) জানিয়েছে, এই সংকট বৈশ্বিক গ্যাস বাজারে বড় ধরনের সরবরাহ ধাক্কা তৈরি করেছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
কাতারের এলএনজি সরবরাহও সংকটের মধ্যে রয়েছে। কাতারএনার্জি ইউরোপ ও এশিয়ার ক্রেতাদের জন্য নির্ধারিত কিছু এলএনজি সরবরাহ বাতিলের সময়সীমা নভেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছে। ফলে আমদানিকারক দেশগুলোকে বিকল্প উৎস থেকে কার্গো সংগ্রহ করতে হচ্ছে কিংবা গ্যাসের ব্যবহার কমাতে হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে ইউরোপ ও এশিয়ার ক্রেতাদের মধ্যে একই কার্গোর জন্য প্রতিযোগিতা বাড়ছে। তবে এশিয়ার অনেক উন্নয়নশীল দেশের পক্ষে উচ্চমূল্যের স্পট এলএনজি কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশসহ এশিয়ার কয়েকটি আমদানিনির্ভর দেশ বিকল্প উৎস থেকে গ্যাস সংগ্রহের চেষ্টা করছে। কেপলার জানিয়েছে, বাংলাদেশও বিকল্প এলএনজি কেনাকাটায় সক্রিয় রয়েছে।
অন্যদিকে, চীন স্পট বাজারের অস্থিরতা এড়াতে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির ওপর বেশি নির্ভর করছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশ সরবরাহের উৎস ও পরিবহনপথ বৈচিত্র্যময় করার চেষ্টা করছে।
বিজ্ঞাপন
বিশ্লেষকদের মতে, শীত মৌসুম যত ঘনিয়ে আসবে, গ্যাস মজুতের জন্য ইউরোপের চাহিদা এবং এশিয়ার প্রয়োজনীয় সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রতিযোগিতা—দুই দিক থেকেই বাজারে চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।








