ইরানের ফ্লাইটে নিষেধাজ্ঞা, প্রতিবেশী দেশগুলোকে কঠোর হুঁশিয়ারি

ইরানের আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করলে প্রতিবেশী দেশগুলোর বিমানবন্দর ও ফ্লাইট ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির সুপ্রিম সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মোহসিন রেজায়ী।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার ইরানের আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কোনো প্রতিবেশী দেশ যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে সহযোগিতা করলে ইরান পাল্টা পদক্ষেপ নেবে।
মোহসিন রেজায়ী বলেন, “যদি প্রতিবেশি দেশগুলো ইরানের আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করে, সেক্ষেত্রে আমরা নিশ্চিত করে বলছি যে তাদের বিমানবন্দরগুলো আর কার্যকর থাকবে না। আমরা পদক্ষেপ নেবো।”
এর আগে ইরানের বিমান খাতকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ৮ সেপ্টেম্বর ইরানের অবশিষ্ট বিমান সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে।
বিজ্ঞাপন
২১ সেপ্টেম্বর মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর বৈশ্বিক কার্যক্রম কার্যত বন্ধ করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, বিদেশি বিমানবন্দরে ইরানি কোনো বিমান অবতরণ করলে সেটিকে জ্বালানি, ল্যান্ডিং পরিষেবা কিংবা টিকিট বিক্রির সুবিধা দেওয়া যাবে না।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে সহযোগিতা না করা দেশগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বেসেন্ট। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অবস্থান নেওয়া দেশগুলো সুবিধা পাবে, আর সহযোগিতা না করা দেশগুলোকে পরিণতি ভোগ করতে হবে।
ইরানি ফ্লাইটে প্রভাব
বিজ্ঞাপন
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব ইতোমধ্যে ইরানের আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে পড়তে শুরু করেছে। ২৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত AFP-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানি বিমান সংস্থাগুলো কয়েকটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে। জর্জিয়া ও আজারবাইজানও ইরানি ফ্লাইট স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
বাগদাদ, মাসকাট ও কাতারগামী কিছু ফ্লাইটও বাতিল হয়েছে। ইরানের রাজধানী তেহরান থেকে নাজাফ, দুবাই, তুরস্ক ও চীনের বিভিন্ন গন্তব্যে কিছু ফ্লাইট চালু থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে।
ইরানের অন্যতম প্রধান বিমান সংস্থা মাহান এয়ারও ইস্তাম্বুল, আঙ্কারা ও মাসকাটসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট স্থগিত করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
তবে সব আন্তর্জাতিক রুটে নিষেধাজ্ঞার প্রভাব একই মাত্রায় পড়েনি। চীন ও তুরস্কের কিছু গন্তব্যে ইরানি বিমান চলাচল অব্যাহত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
এ পরিস্থিতিতে ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক বজায় রাখা এবং একই সঙ্গে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি এড়ানো নিয়ে আঞ্চলিক বিমানবন্দর ও এয়ারলাইনগুলো চাপের মুখে পড়েছে। অন্যদিকে তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, প্রতিবেশী দেশগুলো ইরানি বিমান চলাচলে বাধা দিতে সহযোগিতা করলে তারাও পাল্টা পদক্ষেপের মুখে পড়তে পারে।
সূত্র: এএফপি, ফার্স্টপোস্ট








