Logo

ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পদযাত্রা, বন্ধ ইসলামাবাদের সড়ক

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২১:৪৫
ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পদযাত্রা, বন্ধ ইসলামাবাদের সড়ক
ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছে তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)।

বিজ্ঞাপন

এরই অংশ হিসেবে ইসলামাবাদ অভিমুখে পদযাত্রার ঘোষণা দিয়েছে দলটি। কর্মসূচি ঘিরে রাজধানীতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বন্ধ ও বিভিন্ন স্থানে প্রতিবন্ধক বসানোয় কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে ইসলামাবাদ।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) পিটিআই নেতারা আলোচনা করেন, আগামী রবিবার থেকে ইসলামাবাদ অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করা হবে কি না। দলের কয়েকজন নেতা রবিবার থেকেই ধাপে ধাপে রাজধানীর দিকে এগিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। আবার কেউ কেউ কর্মসূচি আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন।

ইমরান খান ২০২৩ সালে দুর্নীতির মামলায় কারাদণ্ড পাওয়ার পর থেকে কারাগারে রয়েছেন। তার কারাবন্দি অবস্থায় জীবনযাপন ও চিকিৎসার সুযোগ নিয়ে পিটিআই দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে। তার মুক্তির দাবিতে নতুন করে এই কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে দলটি।

বিজ্ঞাপন

পিটিআইয়ের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি বলেছেন, ইমরান খানের কারাগারের পরিস্থিতির উন্নতি, তার মামলাগুলোতে ন্যায্য শুনানির সুযোগ এবং অন্যান্য বিষয়ে সরকার উল্লেখযোগ্য ছাড় না দিলে তারা পদযাত্রা করবেন।

একই সঙ্গে, বিক্ষোভ ঠেকাতে সরকার ইসলামাবাদ অবরুদ্ধ করে রেখেছে এবং পিটিআইয়ের নেতাদের আটক করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এমন পরিস্থিতিতে পিটিআইয়ের কর্মসূচি ঘিরে সহিংস সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর আগের বিক্ষোভগুলোতে ইমরান খানের সমর্থকদের সঙ্গে নিরাপত্তাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

এবারও বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।

পদযাত্রা ঠেকাতে খাইবার পাখতুনখাওয়াতেও হাজারো নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে, প্রাদেশিক রাজধানী পেশোয়ারের সঙ্গে ইসলামাবাদের সংযোগকারী প্রধান মহাসড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ইসলামাবাদে জনসমাবেশও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, রাজধানীজুড়ে ২২ হাজার পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। সড়ক বন্ধ করতে এক হাজারের বেশি কনটেইনার বসানো হয়েছে। এর মধ্যে কিছু কনটেইনারে নিরাপত্তার জন্য ধারালো স্পাইক লাগানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিভিন্ন সেতুতে রাখা হয়েছে বালুর বস্তা। গুরুত্বপূর্ণ একটি মহাসড়কও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, পিটিআইয়ের কয়েক ডজন নেতা ও সাবেক মন্ত্রীকে এরই মধ্যে আটক করা হয়েছে। এমনকি, গত সোমবার ইমরান খানের তিন বোনকেও আটক করা হয়।

খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদির বিরুদ্ধেও পরোয়ানা জারি হয়েছে। ইমরান খানকে একাকী রাখা হয়েছে এবং কয়েক মাস ধরে তার চিকিৎসা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ সীমিত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে পিটিআই।

বিজ্ঞাপন

ইমরান খান তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। তাকে কারাগারে রাখার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে অভিযোগ করে তিনি দাবি করেছেন, বর্তমান সরকার ও দেশটির প্রভাবশালী সামরিক বাহিনীর জন্য তিনি রাজনৈতিক হুমকি হয়ে ওঠায় তাকে বন্দি রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে পাকিস্তানের রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, পিটিআইয়ের বিক্ষোভ বড় আকার ধারণ করলে তা সরকারের জন্য নতুন রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে। অর্থনীতি, নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে মানুষের অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে বিক্ষোভের মাত্রা বাড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে তারা মত দিয়েছেন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

বিজ্ঞাপন

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD