আফগানদের বড় হামলা প্রতিহত করল পাকিস্তান

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান সীমান্ত দিয়ে আফগানিস্তান থেকে অনুপ্রবেশ করা তালেবান যোদ্ধাদের একটি বড় দলকে প্রতিহত করার দাবি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। বৃহস্পতিবার রাতে বেলুচিস্তানের কিল্লা আবদুল্লাহ জেলার গুলিস্তান এলাকায় তালেবান যোদ্ধাদের সঙ্গে পাকিস্তানি সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের তীব্র সংঘর্ষ হয়েছে বলে জানিয়েছে একাধিক নিরাপত্তা সূত্র।
বিজ্ঞাপন
ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। তবে নিহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
নিরাপত্তা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তানের কান্দাহার প্রদেশ থেকে সীমান্ত অতিক্রম করে একদল তালেবান যোদ্ধা গুলিস্তান এলাকায় প্রবেশের পর সংঘর্ষ শুরু হয়। বৃহস্পতিবার রাতজুড়ে থেমে থেমে উভয় পক্ষের মধ্যে লড়াই চলে। সংঘাতের পর ওই এলাকায় এখনও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বেলুচিস্তানের সঙ্গে আফগানিস্তানের হেলমান্দ, কান্দাহার, নিমরোজ ও জাবুল—এই চার প্রদেশের সীমান্ত রয়েছে। গুলিস্তান শহরটি আফগানিস্তানের কান্দাহার প্রদেশের সীমান্তবর্তী হওয়ায় এলাকাটি দুই দেশের সীমান্ত নিরাপত্তার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ।
বিজ্ঞাপন
ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে রয়টার্স আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের মুখপাত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ফলে সংঘর্ষের কারণ ও হতাহতের বিষয়ে তালেবান পক্ষের পৃথক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দীর্ঘদিনের উত্তেজনা
২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা গ্রহণের পর পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সম্পর্ক ক্রমেই অবনতির দিকে যায়। দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার অন্যতম প্রধান কারণ পাকিস্তানের নিষিদ্ধ সশস্ত্র সংগঠন তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)।
বিজ্ঞাপন
পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগানিস্তানে অবস্থানরত তালেবান সরকার টিটিপিকে সহযোগিতা ও আশ্রয় দিচ্ছে। তবে আফগান তালেবান সরকার বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
টিটিপি পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের পাশাপাশি পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বিরুদ্ধে সশস্ত্র কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। সংগঠনটির সঙ্গে আফগান তালেবানের সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানের উদ্বেগ রয়েছে।
সীমান্ত সংঘাতের ধারাবাহিকতা
বিজ্ঞাপন
টিটিপিকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে চলতি বছরও কয়েক দফা সামরিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে সংঘাতের পর পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
তবে পরবর্তী সময়ে টিটিপির হামলা এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় সামরিক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্ক আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
সম্প্রতি পাকিস্তানের নিরাপত্তা চৌকি ও সেনা অবস্থান লক্ষ্য করে আফগানিস্তান থেকে ড্রোন হামলার অভিযোগও ওঠে। এর জবাবে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনী আফগানিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা চালায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে। এসব এলাকার মধ্যে কান্দাহারও ছিল।
বিজ্ঞাপন
কান্দাহার আফগান তালেবান সরকারের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি শহর। তালেবান সরকারের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতউল্লাহ আখুন্দজাদা সেখানে অবস্থান করেন বলে জানা যায়।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এর পরপরই গুলিস্তান এলাকায় আফগান তালেবান যোদ্ধাদের অনুপ্রবেশ ও পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পাকিস্তানি নিরাপত্তা সূত্রগুলো ধারণা করছে, আগের বিমান অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় তালেবান যোদ্ধাদের এই সীমান্ত অতিক্রমের ঘটনা ঘটতে পারে।
তবে হামলার উদ্দেশ্য ও সংঘর্ষের পেছনে সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে আফগান তালেবান সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: রয়টার্স








