Logo

হুতিদের মুখোমুখি সৌদিকে দাঁড় করিয়ে মুখ ফিরিয়ে নিলেন ট্রাম্প

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৭:২৬
হুতিদের মুখোমুখি সৌদিকে দাঁড় করিয়ে মুখ ফিরিয়ে নিলেন ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

ইয়েমেনের হুতিদের সঙ্গে নতুন করে সংঘাতে জড়িয়ে পড়া সৌদি আরবকে যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে সরাসরি সহায়তা করছে না বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ও শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক জন মিয়ারশেইমার। রাশিয়া টুডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, সৌদি আরবকে হুতিদের মোকাবিলায় কার্যত একা অবস্থায় ফেলেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

বিজ্ঞাপন

‘নিউ অর্ডার’ অনুষ্ঠানের সঞ্চালক আফশিন রাতানসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মিয়ারশেইমার হুতিদের একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও দক্ষ সামরিক বাহিনী হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর মতে, সৌদি আরবের জন্য সংগঠনটির সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে জড়ানো বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

মিয়ারশেইমারের দাবি, হুতিদের সঙ্গে নতুন করে সংঘাতে জড়ানোর সিদ্ধান্ত সৌদি আরবের জন্য ভুল হয়েছে। তিনি মনে করেন, হুতিদের সামরিক সক্ষমতা মোকাবিলায় সৌদি বাহিনীর সীমাবদ্ধতা রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রও এ সংঘাতে সরাসরি জড়াতে আগ্রহী নয়।

সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে দেখা গেছে, সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা চাইলেও ট্রাম্প হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি মার্কিন হামলায় সম্মতি দেননি। ১১ সেপ্টেম্বরের এক প্রতিবেদনে রয়টার্স জানায়, ট্রাম্পের সঙ্গে অন্তত দুই দফা ফোনালাপের পরও ওয়াশিংটন সরাসরি হামলায় রাজি হয়নি; তবে গোয়েন্দা তথ্য ও টার্গেটিং সহায়তার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এরপর ২১ সেপ্টেম্বর রয়টার্স জানায়, ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট রাশাদ আল-আলিমিও হুতিদের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক সহায়তা চেয়েছিলেন। তবে ওই ফোনালাপে ট্রাম্প সরাসরি সামরিক সহায়তার কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

এদিকে হুতিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল ও বাব আল-মানদেব প্রণালির আশপাশে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়েছে। এতে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি ও গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। ২১ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে রয়টার্স জানায়, হুতিদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীগুলো চাপের মুখে পড়েছে এবং সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

মিয়ারশেইমার আরও দাবি করেন, হুতিদের সঙ্গে নতুন সংঘাতে সৌদি আরবকে কার্যত একাই মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তাঁর মতে, ট্রাম্প প্রশাসন ইয়েমেন পরিস্থিতিতে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ না করে দূরত্ব বজায় রাখার পথ বেছে নিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান হলো, যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য লোহিত সাগরে নৌ চলাচল ও নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষা করা এবং আঞ্চলিক অংশীদারদের স্থানীয় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ দেওয়া।

সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের ওপর হুতিদের হামলাও বেড়েছে। ১৯ সেপ্টেম্বর রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করে হুতিরা। সৌদি জোট জানায়, রিয়াদের দিকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। একই সময়ে ইয়ানবুর একটি আরামকো স্থাপনাকেও লক্ষ্যবস্তু করার দাবি করে হুতিরা।

সূত্র: আরটি, রয়টার্স

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD