যৌন নির্যাতনের শিকার শিশুকে বিচারকের হৃদয়ছোঁয়া চিঠি, মুগ্ধ সাধারণ মানুষ

সাত বছর বয়সে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিল একটি শিশু। ঘটনার পর আদালতে দাঁড়িয়ে নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া নির্যাতনের কথা সাহসের সঙ্গে জানিয়েছিল সে। সেই সাহসের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শিশুটির উদ্দেশে আবেগঘন একটি চিঠি লিখেছেন ভারতের দিল্লির রোহিণী আদালতের বিচারক রাজনি রাঙ্গা।
বিজ্ঞাপন
বর্তমানে শিশুটির বয়স ১০ বছর। মামলার শুনানিতে সে আদালতের কাছে বলেছিল, তাকে ‘আঙ্কেল’ বলে পরিচিত ওই ব্যক্তিকে যেন বৃদ্ধ হওয়া পর্যন্ত কারাগারে রাখা হয়। শিশুটির সেই কথার উল্লেখ করে বিচারক রাঙ্গা রায়ের শেষে সরাসরি তার উদ্দেশে একটি ব্যক্তিগত বার্তা লেখেন।
চিঠিতে বিচারক শিশুটিকে ‘প্রিয় সন্তান’ সম্বোধন করে তার সাহসের প্রশংসা করেন। তিনি জানান, শিশুটির কথা আদালত শুনেছে এবং সেই অনুযায়ী অভিযুক্তকে বাকি জীবন কারাগারে কাটানোর সাজা দেওয়া হয়েছে। বিচারকের ভাষায়, ওই ব্যক্তি আর মুক্তভাবে ঘুরতে পারবে না এবং কারাগারেই বৃদ্ধ হবে ও সেখানেই জীবনের শেষ সময় কাটাবে।
বিচারক আরও লেখেন, ওই ব্যক্তি ভবিষ্যতে শিশুটি, তার ছোট বোন কিংবা অন্য কোনো শিশুর ক্ষতি করতে পারবে না। আদালতে এসে নির্যাতনকারীকে শনাক্ত করা এবং সত্য বলার জন্য শিশুটিকে অত্যন্ত সাহসী বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
চিঠিতে বিচারক বলেন, আদালত শিশুটির হারিয়ে যাওয়া শৈশব ফিরিয়ে দিতে পারবে না। তবে তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। স্কুলে যেতে, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে, খেলতে, হাসতে এবং নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শিশুটিকে উৎসাহিত করেন বিচারক। তার সাহস আদালত সবসময় মনে রাখবে বলেও জানান তিনি।
ঘটনাটি ঘটে ২০২৩ সালের ২৩ জুলাই, তখন শিশুটির বয়স ছিল সাত বছর। মামলায় অভিযুক্ত সুমিত শাক্যকে পকসো আইনে গুরুতর যৌন নির্যাতন এবং অপরাধমূলক ভয় দেখানোর দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। আদালত তাকে স্বাভাবিক জীবনের বাকি সময় কারাগারে থাকার সাজা এবং জরিমানা দেন। শিশুটির জন্য ১০ লাখ ৫০ হাজার রুপি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়।
পরে অভিযুক্তের করা আপিলের শুনানিতে দিল্লি হাইকোর্টের নজরে আসে বিচারক রাঙ্গার লেখা ওই চিঠি। ২২ সেপ্টেম্বরের আদেশে হাইকোর্ট উত্তর-পশ্চিম দিল্লি জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষকে (DLSA) চিঠিটির একটি মুদ্রিত কপি শিশুটি বা তার পরিবারের কাছে দুই সপ্তাহের মধ্যে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধের অগ্রগতির প্রতিবেদনও চাওয়া হয়।
বিজ্ঞাপন
হাইকোর্টের এই নির্দেশের পর বিচারকের মানবিক বার্তাটি সামনে আসে এবং তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। আদালতের আনুষ্ঠানিক রায়ের বাইরে গিয়ে শিশুটির সাহসকে স্বীকৃতি দেওয়া এই চিঠিকে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ‘কোরেজ নোট’ বা সাহসের বার্তা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।








