যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় চাপের মুখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় দুই দেশের ওপরই অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ বাড়ছে। সাত মাসের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি, নিষেধাজ্ঞা, পারমাণবিক কর্মসূচি ও যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য অব্যাহত রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ইরানের অর্থনীতিতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব ক্রমেই গভীর হচ্ছে। ২৯ সেপ্টেম্বরও ওয়াশিংটন ইরানের সামরিক সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। একই সময়ে দেশটির মুদ্রার বিনিময়মূল্য রেকর্ড পর্যায়ে নেমেছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও দীর্ঘ সংঘাত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করছে। বিশেষ করে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে যুদ্ধ, জ্বালানির দাম এবং সংঘাতের পরিণতি নিয়ে ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক চাপের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এই পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টাও চলছে। কাতারের মধ্যস্থতায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা হয়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালি সাত দিনের মধ্যে খুলে দেওয়া এবং পরবর্তী সময়ে পারমাণবিকসহ অন্যান্য বিষয়ে আলোচনায় ফেরার প্রস্তাব দিয়েছে। বিনিময়ে তেহরান মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং ইরানের জব্দ সম্পদ ছাড়ের মতো শর্ত দিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
তবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সমঝোতার পথ এখনও সহজ হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ অন্যান্য বিরোধের সমাধান চায়। অন্যদিকে ইরান আগে হরমুজ প্রণালি, নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক চাপের বিষয়ে সমাধান চায়। ফলে আলোচনায় কোন বিষয় আগে আসবে, তা নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।
এর মধ্যেই ৩০ সেপ্টেম্বর ইরান জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে তেহরানের সর্বশেষ প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক জবাব পেয়েছে। তবে সেই জবাবের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। ফলে সংঘাত নিরসনে আলোচনার সুযোগ তৈরি হলেও চূড়ান্ত সমঝোতা এখনও অনিশ্চিত।
সূত্র: আল-জাজিরা








