Logo

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য পাত্র-পাত্রী খুঁজে দিচ্ছে সিঙ্গাপুর

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২০:৪৫
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য পাত্র-পাত্রী খুঁজে দিচ্ছে সিঙ্গাপুর
ছবি: সংগৃহীত

দেশটিতে জন্মহার রেকর্ড পরিমাণে কমে যাওয়ায় উদ্বেগের মধ্যে সরকারি চাকরিজীবীদের বিয়ের জন্য পাত্র-পাত্রীর সন্ধান দিতে নতুন একটি সেবা চালু করেছে সিঙ্গাপুর সরকার। ২১ থেকে ৩৫ বছর বয়সী সরকারি কর্মীদের জন্য চলতি সপ্তাহে ‘ফার্স্টডেট’ নামের পরীক্ষামূলক এই সেবা চালু করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ফার্স্টডেটের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ডেটিংয়ের ক্ষেত্রে একটি ‘ভিন্নধর্মী পদ্ধতি’ নিয়ে এসেছে ফার্স্টডেট। এখানে নোবেলজয়ী একটি অ্যালগরিদম ব্যবহার করে অংশগ্রহণকারীদের একবারে শুধু একজনের সঙ্গেই ডেটিংয়ের সুযোগ মিলিয়ে দেওয়া হয়। প্ল্যাটফর্মটির ওয়েবসাইটে লেখা রয়েছে, সোয়াইপ করার ক্লান্তির এখানেই সমাপ্তি।

প্ল্যাটফর্মটিতে প্রবেশের জন্য ব্যবহারকারীদের জাতীয় ডিজিটাল পরিচয়পত্র ব্যবহার করতে হবে। এরপর নিজেদের আগ্রহ, অভ্যাস ও বিভিন্ন বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে একটি জরিপে অংশ নিতে হবে।

ফার্স্টডেট চালুর পর সিঙ্গাপুরের নাগরিকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ এই উদ্যোগকে ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সরকারি হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। আবার অনেকে পরীক্ষামূলক এই সেবা ব্যবহার করে দেখার আগ্রহও প্রকাশ করেছেন।

বিজ্ঞাপন

ওয়েবসাইটে প্ল্যাটফর্মটি পরিচালনা করার পেছনে ব্যবহৃত ‘গেইল-শ্যাপলি স্টেবল ম্যারেজ’ অ্যালগরিদমের বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এই গাণিতিক কাঠামোর মাধ্যমে দু’টি সমানসংখ্যক দলের মানুষদের পছন্দ ও পছন্দের অগ্রাধিকার মেপে জোড়া বেঁধে দেওয়া হয়।

প্রয়াত গণিতবিদ লয়েড শ্যাপলি এই অ্যালগরিদম আবিষ্কারের জন্য ২০১২ সালে অর্থনীতিতে নোবেল লাভ করেন। এটি সরকারি স্কুলে ভর্তি, চিকিৎসকদের শিক্ষানবিশ পদায়ন এবং বিভিন্ন ডেটিং অ্যাপসহ নানা ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

সিঙ্গাপুরের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্মরত ২৯ বছর বয়সী এলিজাবেথ বিবিসিকে বলেন, সব মিলিয়ে কোনো অ্যাপের মাধ্যমে কারও সঙ্গে পরিচিত হওয়ার অভিজ্ঞতা অ্যাপভেদে খুব একটা বদলায় না। তিনি ফার্স্টডেট ব্যবহার করে দেখতে আগ্রহী।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, অন্তত প্রতারিত হওয়ার ঝুঁকি কম জেনে স্বস্তি পাচ্ছি। আমরা তো সবাই সঙ্গী খুঁজে ফেরা সরকারি কর্মচারী, তাই না?

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু ব্যবহারকারী বলছেন, পরীক্ষামূলক পর্যায়ে থাকা এই সেবা কেবল সরকারি চাকরিজীবীদের সুযোগ দেওয়ায় অন্যদের প্রতি বৈষম্য করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

বয়সসীমা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। রেডিটে এক ব্যবহারকারী লেখেন, তারা শুধু জন্মহার বাড়ানোর জন্যই এটা করছে। নয়তো কেউ জীবনসঙ্গী পেল কি পেল না, তা নিয়ে সরকারের কিছু যায়-আসে না।

তিনি বলেন, যেহেতু ৩৫ বা তার বেশি বয়সে সন্তান নেওয়ার ক্ষেত্রে শারীরিক ঝুঁকি বেশি, তাই সরকার সম্ভবত বয়স্ক সিঙ্গেলদের হিসাবের বাইরেই রেখে দিয়েছে।

এই পরীক্ষামূলক সেবা ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য এই উদ্যোগের পেছনের সরকারি সংস্থা গভটেকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বিবিসি।

বিজ্ঞাপন

সিঙ্গাপুরের জন্মহার রেকর্ড পরিমাণে কমে ঐতিহাসিক সর্বনিম্নে পৌঁছানোর পরই সেবাটি চালু করা হয়েছে। গত ৬০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ২০২৫ সালে দেশটিতে জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যা ৩০ হাজারের নিচে নেমে এসেছে।

অন্যদিকে, দ্রুত প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়তে থাকা এই দেশটিতে মৃত্যুর হারও ঊর্ধ্বমুখী; যা ২০২৫ সালে প্রায় ২৬ হাজার ৫০০ জনে পৌঁছেছে।

গত আগস্টে দেশটির প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং পরিবারগুলোকে সহায়তার পাশাপাশি দম্পতিদের সন্তান নিতে উৎসাহিত করার জন্য বেশ কিছু নতুন পদক্ষেপের ঘোষণা দেন। এর মধ্যে একটি শিশুকে ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত দফায় দফায় সর্বমোট প্রায় ৭০ হাজার সিঙ্গাপুরি ডলার (৫৪ হাজার মার্কিন ডলার) আর্থিক সহায়তার বিষয়টি দেশটিতে ব্যাপক আলোড়ন তোলে।

বিজ্ঞাপন

নাগরিকদের জন্য ‘ঘটকালি’ করার চেষ্টা সিঙ্গাপুর এবারই প্রথম করছে, বিষয়টি তেমন নয়। ১৯৮৪ সালে উচ্চশিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের সামাজিক মেলামেশায় উৎসাহিত করতে সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ইউনিট (এসডিইউ) গঠন করেছিল দেশটি।

তবে কেবল বিশ্ববিদ্যালয় গ্র্যাজুয়েটদের সুযোগ দেওয়ায় উদ্যোগটি অভিজাত তোষণকারী বলে সমালোচিত হয়। যদিও কর্তৃপক্ষ বলেছিল, কম শিক্ষিত বা নন-গ্র্যাজুয়েটদের জীবনসঙ্গী খুঁজে পেতে সমস্যা হয় না। পরবর্তীতে এসডিইউয়ের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এরপর বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রিধারী নন—এমন নাগরিকদের মধ্যেও বিয়ের হার বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার আরেকটি সংস্থা গঠন করে।

বিজ্ঞাপন

সরকার পরিচালিত ডেটিং সেবার উদ্যোগ অবশ্য শুধু সিঙ্গাপুরেই দেখা যায়নি। জন্মহার কমে যাওয়ার প্রবণতা মোকাবিলায় ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে জাপানের টোকিও মেট্রোপলিটন সরকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক একটি ডেটিং সেবা চালু করে।

চলতি বছরের জুলাইয়ে প্রকাশিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, টোকিওর অবিবাহিত বাসিন্দাদের জন্য চালু করা ওই সেবার মাধ্যমে অন্তত ২৬৫টি দম্পতি বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।

সূত্র: বিবিসি।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD