Logo

ইরাক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ে উচ্ছ্বসিত ইরানের আইআরজিসি

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫:৩৮
ইরাক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ে উচ্ছ্বসিত ইরানের আইআরজিসি
ছবি: সংগৃহীত

ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। একই সঙ্গে পশ্চিম এশিয়ার অন্যান্য দেশ থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে ইরানের এই বাহিনী।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, ইরাক থেকে মার্কিন বাহিনীর চলে যাওয়া পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি কমানোর বৃহত্তর প্রক্রিয়ার সূচনা হওয়া উচিত।

আইআরজিসির ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক উপস্থিতি আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা বাড়িয়েছে। তাদের দাবি, ইরাকের পর পুরো অঞ্চল থেকেই মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জনগণের হাতে দেওয়া উচিত।

বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের দুই দশকের সামরিক উপস্থিতির অভিজ্ঞতা প্রমাণ করেছে—ওয়াশিংটনের সামরিক অবস্থান পশ্চিম এশিয়ায় স্থায়ী নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। বরং আইআরজিসির দাবি, এই উপস্থিতি নিরাপত্তাহীনতা, সন্ত্রাসবাদ ও অস্থিতিশীলতার অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছিল।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ইরাক যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের মানবিক ও আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ও বিবৃতিতে তুলে ধরা হয়েছে। আইআরজিসির দাবি, ইরাকে দুই দশকের সামরিক হস্তক্ষেপে প্রায় ৫ হাজার মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় প্রায় ৪ ট্রিলিয়ন ডলার। তবে এসব সংখ্যা ও ব্যয়ের হিসাব আইআরজিসির বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

৩০ সেপ্টেম্বর ইরাক থেকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের শেষ সেনাদের প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়। এর মধ্য দিয়ে ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে পরিচালিত মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের ইরাক মিশনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য ইরাকি বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও গোয়েন্দা সহায়তা দেওয়ার মতো সীমিত সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরাক থেকে মার্কিন বাহিনীর বিদায়কে ইরান ও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলো বিজয় হিসেবে দেখছে। একই সময়ে কিছু নিরাপত্তা বিশ্লেষক আশঙ্কা করছেন, মার্কিন সামরিক উপস্থিতি শেষ হওয়ার ফলে ইরাকের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে এবং ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী বা ইসলামিক স্টেটের অবশিষ্ট সদস্যরা সুযোগ পেতে পারে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD