Logo

১০ অক্টোবর দিল্লি ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি ককরোচ জনতা পার্টির

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৮
১০ অক্টোবর দিল্লি ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি ককরোচ জনতা পার্টির
ছবি: সংগৃহীত

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ভারতের মহারাষ্ট্রের মুম্বাইয়ে বড় ধরনের বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। শুক্রবার মুম্বাইয়ের ঐতিহাসিক শিবাজি পার্কে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক তরুণ-তরুণী অংশ নেন। সমাবেশ থেকেই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে নতুন করে আন্দোলনে নামবে সংগঠনটি।

বিজ্ঞাপন

সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা ও নেতা অভিজিৎ দীপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সমর্থকেরা দিল্লিতে গিয়ে যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করবেন। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে নাগরিকদের এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সংগঠনটি এই কর্মসূচির নাম দিয়েছে ‘যন্তর মন্তর ২.০’।

সমাবেশে ভোটার তালিকা নিয়ে গুরুতর কিছু অভিযোগ তোলেন দিপকে। তিনি দাবি করেন, গত দুই বছরে দেশজুড়ে প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম তালিকা থেকে মুছে ফেলা হয়েছে। এছাড়া ২০২৪ সালের মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনে ৪০ লাখ নতুন ভোটার যুক্ত করে বিজেপি নির্বাচন ‘চুরি’ করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, তামিলনাড়ুর সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী এলাকা থেকে পরিকল্পিতভাবে হাজার হাজার ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

আরেক সিজেপি নেতা অজিঙ্কা শিন্ডে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি ২০২৫ সালের ভোটার তালিকা স্থগিত করা এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত ২০২৩ সালের আইন বাতিলেরও দাবি ওঠে এই সমাবেশ থেকে। দিপকে অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীন বিজেপির ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ নীতির পেছনের আসল উদ্দেশ্য হলো ‘এক দেশ, এক দল’ কায়েম করা। আঞ্চলিক দলগুলোকে শেষ করে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।

পুলিশের অনুমতি না থাকা এবং দুপুরের তীব্র গরম উপেক্ষা করে হাজার হাজার তরুণ-তরুণী এই বিক্ষোভে অংশ নেন। সমাবেশে প্রবীণ অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ, শাবানা আজমি, নির্মাতা বিশাল ভরদ্বাজ, হানসাল মেহতা, সংগীতশিল্পী বিশাল দাদলানি এবং মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধী উপস্থিত ছিলেন। মহাত্মা গান্ধীর জন্মবার্ষিকীর সঙ্গে মিল রেখে আয়োজিত এই প্রতিবাদ মঞ্চে অহিংসার বাণী ও বাবাসাহেব আম্বেদকরের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। আন্দোলনকারীদের হাতে নানা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড দেখা যায়, যেখানে সিইসির পদত্যাগের দাবি লেখা ছিল।

শিবসেনা (ইউবিটি) সিজেপির এই আন্দোলনে নিজেদের সমর্থন জানিয়েছে। দলটির স্থানীয় বিধায়ক মহেশ সাওয়ান্ত জানান, অসুস্থতার কারণে আদিত্য ঠাকরে উপস্থিত থাকতে পারেননি। অন্যদিকে, সিজেপির আরেক নেতা সৌরভ দাস দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীদের আটকের ঘটনায় দিল্লি পুলিশের কড়া সমালোচনা করে তাদের আচরণ শোধরানোর হুঁশিয়ারি দেন।

বিজ্ঞাপন

সমাবেশে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, ভোটাধিকার প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার। ভোটার তালিকা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ দূর করা না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD