Logo

মমতার পায়ের চোট ‘ভুয়া’, প্রমাণ আছে: শুভেন্দু অধিকারী

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২১:২১
মমতার পায়ের চোট ‘ভুয়া’, প্রমাণ আছে: শুভেন্দু অধিকারী
ছবি: সংগৃহীত

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে লাগা চোট নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার দাবি, ওই সময় মমতার পায়ে যে গুরুতর চোটের কথা বলা হয়েছিল, তা সত্য নয়। এ দাবির পক্ষে তার কাছে চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার নন্দীগ্রামের আসন্ন বিধানসভা উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের পক্ষে প্রচারে গিয়ে বিরুলিয়া বাজারের এক সমাবেশে এসব কথা বলেন শুভেন্দু। তিনি জানান, তাকে এ বিষয়ে চ্যালেঞ্জ করা হলে সংশ্লিষ্ট নথি প্রকাশ্যে আনা হবে।

২০২১ সালের মার্চে মমতা যেখানে আহত হয়েছিলেন, সেই বিরুলিয়া বাজারে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে গিয়েছিলেন। ভবানীপুর বিধানসভা এলাকার অধীনে হাসপাতালটি থাকায় হাসপাতাল কমিটির সভাপতি হিসেবে সেখানে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

শুভেন্দুর দাবি, রোগীকে এক্স-রে প্লেট দেওয়া হলেও চিকিৎসা প্রতিবেদনের একটি কপি হাসপাতালে সংরক্ষিত থাকে। তার কাছে থাকা ওই নথিতে মমতার চিকিৎসকেরা ‘কোনো ফ্র্যাকচার নেই’ লিখেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও দাবি করেন, মমতার চলন্ত গাড়ির খোলা দরজা রাস্তার পাশের একটি লোহার খুঁটিতে ধাক্কা খেয়ে ফিরে এসে তার পায়ে আঘাত করে। শুভেন্দুর ভাষ্য অনুযায়ী, এতে সামান্য চোট লেগেছিল। পরে ভালো পায়ে ব্যান্ডেজ করা হয় এবং ঘটনাটিকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল, যা নন্দীগ্রামের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শুভেন্দু বলেন, ওই ঘটনার পর সিআইডি স্থানীয় নেতাদের বারবার তলব করেছিল। বিষয়টি তিনি ভুলে যাননি বলেও মন্তব্য করেন।

২০২১ সালের ১০ মার্চ নির্বাচনী প্রচারের সময় নন্দীগ্রামের বিরুলিয়ার রেয়াপাড়া এলাকায় আহত হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তখন তিনি প্রথমে জানিয়েছিলেন, ভিড়ের মধ্যে কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তাকে ধাক্কা দিয়ে গাড়ির খোলা দরজার দিকে ফেলে দেয় এবং এতে বাঁ পায়ে আঘাত লাগে।

বিজ্ঞাপন

পরে হাসপাতাল থেকে দেওয়া ভিডিও বার্তায় মমতা বলেন, সমর্থকদের অভিবাদন জানানোর সময় ভিড় তার গাড়ির ওপর চাপ সৃষ্টি করলে তার পা পিষে যায়। সে সময় চিকিৎসকেরা তার বাঁ গোড়ালি ও পায়ে হাড় ও লিগামেন্টে গুরুতর আঘাতের কথা জানিয়েছিলেন। ডান কাঁধ, বাহু, ঘাড় ও কোমরেও ব্যথার কথা উল্লেখ করা হয়।

দুই দিন চিকিৎসার পর ১২ মার্চ বাঁ পায়ে কাস্ট বা প্লাস্টার নিয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান মমতা। এরপর হুইলচেয়ারে বসেই নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেন।

তবে পরবর্তী সময়ে এ ঘটনা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষকদের প্রতিবেদনে মমতার ওপর পরিকল্পিত হামলার প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। একই সঙ্গে নিরাপত্তাব্যবস্থায় গাফিলতির কথাও প্রতিবেদনে উঠে আসে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে শুভেন্দুর বর্তমান দাবির পর বিষয়টি আবারও রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছে। মমতার তৎকালীন চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি ও শুভেন্দুর দাবির মধ্যে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে নতুন করে তদন্তের কথাও জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। তবে শুভেন্দুর দাবি বা নতুন তদন্ত—কোনোটিই নিজে থেকে প্রমাণ করে না যে মমতার চোটের ঘটনা সাজানো ছিল।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD