রিয়াদে জ্বালানি স্থাপনায় ভয়াবহ আগুন, আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের দক্ষিণে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল কোম্পানি আরামকোর একটি স্থাপনায় শনিবার (৩ অক্টোবর) আগুনের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থল থেকে আগুন ও ঘন ধোঁয়া উঠতে দেখা যায় বলে জানিয়েছেন সেখানে উপস্থিত এএফপির এক সাংবাদিক।
বিজ্ঞাপন
আগুন কীভাবে শুরু হয়েছে বা এর পেছনে কারণ কী, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাস্থলে দমকল বাহিনীর একাধিক গাড়ি আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে দেখা যায়। পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্স ও পুলিশের গাড়িও সেখানে অবস্থান করছিল।
রিয়াদের দক্ষিণে অবস্থিত আরামকোর ওই স্থাপনাটি একটি তেল শোধনাগার। শনিবার সন্ধ্যায় সেখানে আগুন জ্বলতে দেখা গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য দেয়নি। একইভাবে ইয়েমেনের হুতিদের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিজ্ঞাপন
সৌদি আরবের অর্থনীতিতে আরামকোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দেশটির সরকারের মালিকানাধীন এই প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি কোম্পানি হিসেবে পরিচিত।
ইয়েমেনের চলমান সংঘাতকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় হুতিদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি আরব আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের পক্ষে অবস্থান করছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
গত মাসে হুতিরা দাবি করেছিল, তারা রিয়াদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং বন্দরনগরী ইয়ানবুতে আরামকোর কয়েকটি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এর আগে আগস্টেও সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় নাজরান এলাকায় একটি বিমানবন্দর ও আরামকোর একটি স্থাপনায় হামলার দাবি করেছিল তারা।
বিজ্ঞাপন
জুলাইয়ে হুতিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সমুদ্র অবরোধের ঘোষণা দেয়। এরপর লোহিত সাগরে সৌদি তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
এদিকে শনিবার ইয়েমেনের রাজধানী সানাতেও কয়েকটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছেন এএফপির সাংবাদিকরা। হুতিদের দাবি, সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনী সানা ও আশপাশের এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে। তবে এসব দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে গৃহযুদ্ধে জর্জরিত ইয়েমেন এখনো বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ। দীর্ঘ সংঘাতের কারণে দেশটির নিরাপত্তা ও মানবিক পরিস্থিতি ব্যাপকভাবে অস্থিতিশীল হয়ে রয়েছে।








