মিঠুনকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। তাকে ক্যাবিনেট মন্ত্রীর মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে তার এই নিয়োগের কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞাপন
সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মিঠুন চক্রবর্তীর নিয়োগ অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্বে থাকবেন। রাজ্যপালের অনুমোদনক্রমে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়ালের স্বাক্ষর রয়েছে।
মিঠুনকে নতুন দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি অবশ্য হঠাৎ করে সামনে আসেনি। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রচারে সক্রিয় ভূমিকা রাখার পর থেকেই তাকে গুরুত্বপূর্ণ কোনো দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে—এমন আলোচনা চলছিল। নির্বাচনী প্রচারে বিভিন্ন এলাকায় সভা ও প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। তার উপস্থিতিকে ঘিরে বিজেপির বিভিন্ন কর্মসূচিতেও মানুষের ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
নির্বাচনে বিজেপির সাফল্যের পর মিঠুনের ভূমিকার প্রশংসা করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মিঠুনকে পাশে নিয়ে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘ইনি (মিঠুন) অত্যন্ত নিঃস্বার্থভাবে পশ্চিমবঙ্গের গত ১৫ বছরের বিপর্যয় থেকে বাংলাকে বাঁচাতে, পশ্চিমবঙ্গের হৃত গৌরব ফিরিয়ে আনতে, এখানকার রাষ্ট্রবাদীদের বাঁচাতে, বিশেষ করে মা-বোনেদের সুরক্ষিত রাখার জন্য নিরলস চেষ্টা করেছেন। ঐকান্তিক প্রয়াস ছিল। সীমা ছিল না তার পরিশ্রমের। এই নির্বাচনেও যদি সর্বোচ্চ সভা, রোড শো, এমনকী নির্বাচনের আগে ৮-১০ মাস ধরে ইনডোর মিটিং করেছেন। কোনো সাংবিধানিক পদ দিলেও নেন না মিঠুনদা। জাতীয় সদস্য তিনি। মাইক্রো লেভেলেও কাজ করেছেন প্রায় এক বছর ধরে। শেষ তিন-চার মাস সভার কোনো সংখ্যা নেই। আমি মুখ্যমন্ত্রী হয়েছি নিশ্চিতভাবে জনগণের ভোটে, আশীর্বাদে। বিজেপি মনোনীত করেছে। কিন্তু নেপথ্যের কারিগর হিসেবে যে কয়েকটা নাম আসে, তার মধ্যে মিঠুন চক্রবর্তী অন্যতম।’
বিজ্ঞাপন
এর আগে শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসাও করেছিলেন মিঠুন। তার বক্তব্য ছিল, ‘আমি একটাই কথা বলব সবাইকে, এর থেকে ভালো মুখ্য়মন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গে হতে পারে না। যে মুহূর্তে শপথ নিয়েছেন, তার পর থেকেই কাজ করছেন। আপনারা দেখুন। গ্যারান্টি দিয়ে বলছি, এর থেকে ভালো মুখ্যমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গে হতে পারে না। আমরা আশীর্বাদধন্য যে, শুভেন্দু অধিকারীকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পেয়েছি। আগামীতেও কী হবে দেখুন। চ্যালেঞ্জ করছি। আগামীতে এই যোদ্ধা একের পর এক লড়াই লড়বেন। আর আমি তো পিছনে রইলামই।’
মিঠুন চক্রবর্তীর রাজনৈতিক পথচলাও দীর্ঘ। ছয় ও সাতের দশকে নকশাল আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকার পর পরবর্তী সময়ে সক্রিয় রাজনীতিতে তার প্রবেশ ঘটে তৃণমূল কংগ্রেসের মাধ্যমে। পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাকে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিলেন। ২০১৬ সালের ২৬ ডিসেম্বর তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি।
এরপর ২০২১ সালের ৭ মার্চ বিজেপিতে যোগ দেন মিঠুন। একই বছরের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির হয়ে নির্বাচনী প্রচারেও অংশ নেন তিনি। পরবর্তী সময়ে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও দলটির প্রচারে সক্রিয় ছিলেন।
বিজ্ঞাপন
নতুন দায়িত্ব পাওয়ার সময় মিঠুন বর্তমানে আলিপুরদুয়ারে শুটিংয়ে রয়েছেন বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। সেখান থেকেই নতুন দায়িত্ব দেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।
তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উপদেষ্টা হিসেবে মিঠুনের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব ও কার্যপরিধি পরবর্তী সময়ে আরও স্পষ্ট হবে। তবে ক্যাবিনেট মন্ত্রীর মর্যাদায় তার এই নিয়োগ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নতুন প্রশাসনিক দায়িত্বে অভিনেতা ও বিজেপি নেতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সূত্র: এবিপি আনন্দ
বিজ্ঞাপন








