Logo

যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ: দুদিনে তৃতীয়বার আটক রাহুল-প্রিয়াঙ্কা গান্ধী

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১৯:২৫
যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ: দুদিনে তৃতীয়বার আটক রাহুল-প্রিয়াঙ্কা গান্ধী
ছবি: সংগৃহীত

ভারতে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিতর্কিত পদক্ষেপের প্রতিবাদ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলা বিক্ষোভ থেকে বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কয়েকজন সংসদ সদস্যকে ফের আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। এ নিয়ে টানা দুদিনে তৃতীয়বারের মতো আটক হলেন রাহুল গান্ধী।

বিজ্ঞাপন

বুধবার নয়াদিল্লির যন্তর মন্তর এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিতে গেলে তাদের আটক করা হয়। ঘটনাস্থলে থাকা অন্য আন্দোলনকারীদেরও পুলিশ ধরে বাসে তুলে সরিয়ে দেয়। পুলিশ এলাকা ছেড়ে যেতে বললেও রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী রাস্তায় বসে বিক্ষোভ চালিয়ে যান।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার দুপুরে মধ্য-দিল্লির একটি রেস্তোরাঁয় খাবার খাওয়ার পর রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা যন্তর মন্তরের উদ্দেশে রওনা হন। তবে তাদের পথ আটকে দেয় পুলিশ।

প্রথমে রাহুল গান্ধীসহ শীর্ষ নেতাদের একটি বাসে তুলে বসিয়ে দেওয়া হয়। পরে অন্য নেতাদেরও আটক করার চেষ্টা করলে ইনডিয়া জোটের নেতারা বাস থেকে নেমে আবার রাস্তায় বসে পড়েন। পুলিশ তাদের সরে যেতে বললেও রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা সেখানে অবস্থান অব্যাহত রাখেন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

একপর্যায়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী রাস্তায় শুয়ে পড়েন এবং পুলিশকে তাকে সরিয়ে দেখানোর চ্যালেঞ্জ জানান। পরে পুলিশ রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে টেনে-হিঁচড়ে বাসে তুলে নেয়।

এর আগে মঙ্গলবারও নির্বাচন কমিশনের সদরদপ্তরের দিকে যাওয়ার সময় বিরোধী সংসদ সদস্যদের বাধা দেয় পুলিশ। ওই সময় আকাশবাণী ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইনডিয়া জোটের সংসদ সদস্য ও নেতারা। পরে সেখান থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে হেফাজতে নেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের জন্য কংগ্রেস বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দল পুলিশের কাছ থেকে অনুমতি নেয়নি। দিল্লি পুলিশের দাবি, যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ করতে হলে আগে অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। কর্মসূচির অন্তত ১০ দিন আগে নয়াদিল্লি জেলার ডেপুটি পুলিশ কমিশনারের কাছে আবেদন করতে হয়।

এদিকে, মঙ্গলবারের অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে এফআইআর করেছে দিল্লি পুলিশ। এ বিষয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, তিনি তার বিরুদ্ধে আরও মামলা দেখতে চান।

রাহুল গান্ধী বলেন, “আমার বিরুদ্ধে এখন ৪৫টি মামলা আছে। আমার লক্ষ্য হলো ১০০টি করা।”

বিজ্ঞাপন

বুধবার দুপুরের খাবারের পর সাংবাদিকদের রাহুল গান্ধী বলেন, “গতকাল যেমন বলেছিলাম, প্রায় ৩০০ জন সংসদ সদস্য প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমাদের জানানো হয়, আমরা সেখানে বিক্ষোভ করতে পারব না। তাই আজ আমাদের পরিকল্পনা হলো নির্ধারিত স্থানে যাওয়া। আমরা যন্তর মন্তরে গিয়ে সবাই একসঙ্গে বসব। দেশের মানুষকে জানাব যে জ্ঞানেশ কুমার আমাদের কাছে বৈধ নির্বাচন কমিশনার নন। মোদি, অমিত শাহ, মোহন ভাগবত ও জ্ঞানেশ কুমার মিলে দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করেছেন।”

পরে দিল্লির জনপথের সাগর রত্ন রেস্তোরাঁয় ইনডিয়া জোটের নেতারা বৈঠকে বসেন। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের আমন্ত্রণে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে ভোটার তালিকা নিয়ে প্রতিবাদ আরও জোরদার করা এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে খাড়গে অভিযোগ করেন, গণতন্ত্র ধ্বংস করা হচ্ছে। বিরোধী দলগুলো ভোটার তালিকা নিয়ে তাদের অভিযোগ জনগণের সামনে তুলে ধরবে বলেও জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

বৈঠক শেষে সংসদ সদস্যরা বাসে করে যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে ওই এলাকার দিকে যাওয়ার সব পথ ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেয় পুলিশ। ফলে পথেই তাদের বহনকারী বাস থামিয়ে দেওয়া হয়।

ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবস্থান নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে বিরোধী জোট।

সূত্র: রয়টার্স, এনডিটিভি।

বিজ্ঞাপন

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD