ভারতজুড়ে ব্যাপক ধরপাকড়, দিল্লিতে কী হতে যাচ্ছে ১০ অক্টোবর?

ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া বা বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। দলটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিকে কেন্দ্র করে এই কর্মসূচি পালনের কথা জানিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
কর্মসূচিকে সামনে রেখে সিজেপির নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশি চাপ ও আটকের অভিযোগও উঠেছে। দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে দাবি করেছেন, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ঠেকাতে বিভিন্ন এলাকায় তাদের কর্মী-সমর্থকদের পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে এবং আটক করার চেষ্টা চলছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মহারাষ্ট্রের চন্দ্রপুরে সিজেপির এক সমর্থককে পুলিশ নোটিশ দেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। ওই নোটিশে দিল্লির কর্মসূচিতে যাওয়ার পরিকল্পনা ও ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছিল বলে দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। চন্দ্রপুরের পুলিশ অবশ্য বলেছে, এ ধরনের নোটিশ বিক্ষোভের আগে নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ।
এর আগে সিজেপির সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাশও অভিজিৎ দিপকেসহ দলের কয়েকজন নেতাকে ১০ অক্টোবরের আগে গ্রেপ্তার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তবে তিনি এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এদিকে SIR ইস্যুতে দিল্লিতে সাম্প্রতিক বিক্ষোভে বিরোধী দলের নেতাদের আটকের ঘটনাও ঘটেছে। ৭ অক্টোবর কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ কয়েকজন বিরোধী সংসদ সদস্যকে নির্বাচন কমিশনের প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভের সময় আটক করে পুলিশ।
১০ অক্টোবরের কর্মসূচির ঘোষণা আসে মুম্বাইয়ে সিজেপির একটি বিক্ষোভের পর। অভিজিৎ দিপকে তখন জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করে দিল্লির যন্তর মন্তরে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দেন এবং আন্দোলন শান্তিপূর্ণ রাখার কথা জানান।
SIR নিয়ে সমালোচকদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ পড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে ভারতের নির্বাচন কমিশন এ ধরনের রাজনৈতিক পক্ষপাত বা অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। কমিশনের বক্তব্য, ভোটার তালিকা থেকে মৃত ব্যক্তি, একাধিকবার থাকা নাম ও অযোগ্য ভোটারদের বাদ দিয়ে তালিকা পরিশুদ্ধ করাই SIR-এর উদ্দেশ্য।
বিজ্ঞাপন
এরই মধ্যে ৮ অক্টোবর বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কে SIR-বিরোধী আরেকটি বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে অভিজিৎ দিপকের পাশাপাশি ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী ও অভিনেতা-অ্যাক্টিভিস্ট প্রকাশ রাজও অংশ নেন। ওই কর্মসূচি থেকেও জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি ওঠে।
ফলে ১০ অক্টোবরের যন্তর মন্তরের কর্মসূচিতে কতটা সমাগম হয়, পুলিশ ও প্রশাসন কী ধরনের ব্যবস্থা নেয় এবং বিক্ষোভ ঘিরে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়—এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।








