বিশ্ব জ্বালানি সংকটের বড় ধাক্কা এখনো আসেনি, সতর্ক করল কাতার

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন কাতারের উপপ্রধানমন্ত্রী শেখ সৌদ বিন আবদুর রহমান আল থানি। তার আশঙ্কা, জ্বালানি সংকটের সবচেয়ে বড় ধাক্কা এখনো আসেনি। আগামী দিন ও মাসগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে আরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দোহায় গ্লোবাল সিকিউরিটি ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় এ সতর্কবার্তা দেন কাতারের প্রতিরক্ষাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা আল থানি। তিনি বলেন, জ্বালানির ক্ষেত্রে বিশ্ব এখনো সংকটের চূড়ায় পৌঁছায়নি। সামনের দিন ও মাসগুলোতে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।
কাতার ও উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তাঝুঁকি তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকির পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং এর জবাবে তেহরানের আঞ্চলিক বিভিন্ন স্থানে পাল্টা হামলার পর থেকে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে। বিশ্বের তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবহনপথ এটি। এ পথে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
গত মার্চে কাতারের রাস লাফান শিল্প কমপ্লেক্সে ইরানের হামলায় বেশ কয়েকটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব স্থাপনা মেরামত করতে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হামলার বিষয়ে আল থানি বলেন, ওই ঘটনায় তারা বিস্মিত হয়েছিলেন। তবে ঘটনার পর ইরানের সঙ্গে এ নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। এ হামলা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সম্পদ সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর টোল বা ট্রানজিট ফি আরোপের বিরোধিতা করেছেন কাতারের উপপ্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ নৌপথ ব্যবহারের জন্য ট্রানজিট ফি নেওয়া উচিত নয়। প্রণালিকে ঘিরে অনিশ্চয়তা দীর্ঘায়িত হলে শেষ পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভোক্তাদের ওপর এর প্রভাব পড়বে।
বিজ্ঞাপন
ইরানের হামলার পরও তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করেনি দোহা। আল থানি বলেন, ‘আমরা কখনোই যোগাযোগ বন্ধ করি না।’ দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি।
হামলার আগে ইরানের সঙ্গে কাতারের সম্পর্ককে আস্থাভিত্তিক হিসেবে বর্ণনা করেন আল থানি। দুই দেশের অভিন্ন সমুদ্রতলীয় গ্যাসক্ষেত্র এবং দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক স্বার্থের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ইসরায়েলসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় কাতার, পাকিস্তান ও ওমানের মধ্যস্থতা সফল হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তবে টেকসই সমাধানের জন্য আরও বিস্তৃত আঞ্চলিক সংলাপ প্রয়োজন বলে মনে করেন আল থানি। এ আলোচনায় উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সদস্যদেশ, পাকিস্তান, তুরস্ক এবং আন্তর্জাতিক মিত্রদের যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
আল থানি বলেন, ‘আমাদের আস্থা তৈরি করতে হবে।’ ভবিষ্যতে সংঘাত এড়াতে ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়ানোর সম্ভাবনাও তুলে ধরেন তিনি। এ ক্ষেত্রে কয়েক দশকের বৈরিতার পর ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যে গড়ে ওঠা সহযোগিতার উদাহরণ দেন কাতারের উপপ্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ইরান আমাদের প্রতিবেশী। তাদের সঙ্গে বসবাসের উপায় আমাদের খুঁজে বের করতে হবে।’
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়টিও তুলে ধরেন আল থানি। তার দাবি, গত তিন থেকে চার দশকে দুই দেশের মধ্যে সামরিক সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতা ভাগাভাগির ফলে ৯০ শতাংশের বেশি হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।
কাতারে অবস্থিত আল উদেইদ বিমানঘাঁটির সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ চলছে বলেও জানান তিনি। এ ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাসদস্যদের পাশাপাশি অন্যান্য অংশীদার দেশের সামরিক কর্মীরাও অবস্থান করেন।
চলমান সংঘাতের সময় ইরান এ ঘাঁটিতেও হামলা চালিয়েছিল। কাতারের দাবি, মার্চের শুরুর দিকে একটি হামলার সময় তারা ইরানের দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
এ ছাড়া নতুন একটি আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন আল থানি। তিনি বলেন, কাতার এখন আকাশ প্রতিরক্ষা, ড্রোনবিরোধী ব্যবস্থা ও সাইবার নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। শিগগিরই নতুন অংশীদারত্বের ঘোষণা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। তবে এতে কোন কোন আঞ্চলিক দেশ যুক্ত থাকবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি।
বিজ্ঞাপন
কাতারের উপপ্রধানমন্ত্রী বলেন, মধ্যস্থতার উদ্যোগ নেওয়ার অর্থ এই নয় যে দেশের ভূখণ্ড রক্ষার প্রস্তুতি থাকবে না। কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি যেকোনো পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতিও বজায় রাখতে হবে।
সূত্র: আল-জাজিরা








