Logo

সৌদি আরবে ১০ মাসে ১৮৮ জনের মৃত্যুদণ্ড, শীর্ষে মাদক অপরাধ

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ২০:০৫
সৌদি আরবে ১০ মাসে ১৮৮ জনের মৃত্যুদণ্ড, শীর্ষে মাদক অপরাধ
ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবে ২০২৬ সালের প্রথম ১০ মাসে ১৮৮ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। হত্যা, মাদক পাচার ও সন্ত্রাসবাদ-সংশ্লিষ্ট অপরাধে এসব দণ্ড কার্যকর করা হলেও বছরের প্রথম ছয় মাসের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মৃত্যুদণ্ডের সবচেয়ে বড় অংশই ছিল মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধে।

বিজ্ঞাপন

বার্তা সংস্থা এএফপির সরকারি ঘোষণাভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, গত ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত সৌদি আরবে ১৮৮ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। পরদিন, ১৮ অক্টোবর, পাঁচ সৌদি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশিত হয়। এ ছাড়া দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবরও এসেছে।

ইউরোপিয়ান সৌদি অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটসের (ইএসওএইচআর) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে সৌদি আরবে ১০৮ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তাঁদের মধ্যে ৭১ জন মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধে, ২৫ জন হত্যার দায়ে, ৯ জন রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট অপরাধে এবং তিনজন অন্যান্য অপরাধে দণ্ডিত ছিলেন।

অর্থাৎ, ওই ছয় মাসে কার্যকর হওয়া মৃত্যুদণ্ডের প্রায় ৬৬ শতাংশই ছিল মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধে। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, এ সময়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৫৯ জন বিদেশি নাগরিক এবং ৪৯ জন সৌদি নাগরিক ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের গত ২২ জুন প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সে সময় পর্যন্ত সৌদি আরবে ৯৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে অন্তত ৬১ জন মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধে দণ্ডিত ছিলেন। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটিতে অন্তত ৩৫৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সৌদি আরবের বিচারব্যবস্থা শরিয়াহভিত্তিক বিধান, লিখিত আইন ও রাজকীয় আদেশের সমন্বয়ে পরিচালিত হয়। অপরাধের ধরন, প্রমাণ, পরিস্থিতি এবং প্রযোজ্য আইনের ওপর শাস্তি নির্ভর করে।

দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মাদক পাচার করে সৌদি আরবে প্রবেশ করানো এবং বিদেশ থেকে মাদক এনে বিতরণের মতো গুরুতর অপরাধে মৃত্যুদণ্ড হতে পারে। মাদক বিক্রির মতো অপরাধে কারাদণ্ড, জরিমানা বা অন্যান্য শাস্তির বিধানও রয়েছে। অপরাধের পুনরাবৃত্তি ও পরিস্থিতি অনুযায়ী শাস্তি আরও কঠোর হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

ইচ্ছাকৃত হত্যার ক্ষেত্রে কিসাসের বিধান প্রযোজ্য হতে পারে। এ ব্যবস্থায় আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হলে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া সম্ভব। তবে নিহত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীরা আইনগত শর্ত অনুযায়ী ক্ষমা করলে বা ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করলে মামলার পরিণতি পরিবর্তিত হতে পারে।

এ ছাড়া সন্ত্রাসবাদ, নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সহায়তার মতো গুরুতর অপরাধেও মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে।

এএফপির ১৮ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়, পাঁচ সৌদি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনে যোগ দেওয়া, নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর গুলি চালানো এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সহায়তার অভিযোগ ছিল।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, চুরি, প্রতারণা, মদ বা মাদক সেবনসহ অন্যান্য অপরাধের শাস্তি অপরাধের ধরন ও প্রযোজ্য আইনের ওপর নির্ভর করে। এসব অপরাধে কারাদণ্ড ও জরিমানাসহ বিভিন্ন শাস্তি হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট অপরাধে শরিয়াহর বিশেষ শর্ত পূরণ হলে আরও কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।

সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডের ব্যাপক ব্যবহার নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সমালোচনা রয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতে, মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধে মৃত্যুদণ্ড আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সংস্থাটি সব ধরনের অপরাধেই মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করে।

ইএসওএইচআরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ১০৮ জনের মধ্যে ৮৩ জনের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগ ছিল না। সংস্থাটির মতে, এ পরিসংখ্যান দেশটিতে মৃত্যুদণ্ড প্রয়োগের পরিধি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।

বিজ্ঞাপন

তবে সৌদি কর্তৃপক্ষের অবস্থান ভিন্ন। দেশটির সরকার মৃত্যুদণ্ডকে জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষার একটি উপায় হিসেবে বিবেচনা করে। এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, আপিলের সব আইনি সুযোগ শেষ হওয়ার পরই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD