Logo

দেড় দশকে দেশে প্রকৃত অর্থে কোনো নির্বাচন হয়নি: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
ভোলা
২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১৬:৫৪
দেড় দশকে দেশে প্রকৃত অর্থে কোনো নির্বাচন হয়নি: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
ছবি: সংগৃহীত

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, আগামী বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবং এ নির্বাচনে অংশ নিতে সব রাজনৈতিক দল প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমরা আশা করছি, এবারের নির্বাচন একটি উৎসবমুখর ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশে সম্পন্ন হবে।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) বেলা পৌনে ১২টার দিকে ভোলা শহরের সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে ‘ভোটের গাড়ি’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এই নির্বাচনের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। বাস্তবতা হলো, গত ১৫ বছরে দেশে প্রকৃত অর্থে কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। যদি নির্বাচন ধরা হয়, তাহলে সর্বশেষ ভোট হয়েছিল ২০০৮ সালে। ফলে বর্তমানে ৩০ বছরের আশপাশের বিপুল সংখ্যক তরুণ নাগরিক আজ পর্যন্ত ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাননি।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো—দেশের প্রতিটি মানুষ যেন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দেখতে পারে। এই কারণেই সরকার চায়, ভোটাররা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারুক। তিনি স্পষ্ট করে জানান, সরকার কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে অবস্থান করছে না।

তৌহিদ হোসেন আরও বলেন, মনোনয়নপত্র সংগ্রহের সময়সীমা শেষ হলে স্পষ্ট হবে কারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। লক্ষ্য একটাই—২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ যেন ভোটাধিকার প্রয়োগ করে নিজেদের প্রতিনিধি বেছে নিতে পারে।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা স্মরণ করিয়ে দেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে একটি বিশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দেশ পরিবর্তনের পথে এগিয়েছে। সেই সময় শিক্ষার্থীসহ অনেক তরুণ জীবন দিয়েছেন। তাদের দাবির আলোকে সরকার কিছু সংস্কারমূলক প্রস্তাবের একটি তালিকা তৈরি করেছে। যদিও সব দাবি শতভাগ পূরণ হয়নি, তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, এই তালিকা প্রথমবারের মতো জনগণের সামনে উপস্থাপন করা হবে। এ বিষয়ে আলাদাভাবে গণভোট আয়োজন করা হবে, যেখানে জনগণ ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের মাধ্যমে মতামত দিতে পারবেন। যদি তালিকার ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ বিষয়ে জনগণের সম্মতি থাকে, তাহলে সেটি বাস্তবায়নের পথ সুগম হবে।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, কী ধরনের পরিবর্তন দেশ চায় বা চায় না—সে সিদ্ধান্ত দেওয়ার দায়িত্ব এখন জনগণের। আর এই পরিবর্তন বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকবে ভবিষ্যতের নির্বাচিত সংসদের ওপর। কারণ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা জনগণের মতামত উপেক্ষা করতে পারবেন না; তাদের আবার ভোটের জন্য জনগণের কাছেই ফিরতে হবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, দেশকে যে স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক ধারা থেকে বিচ্যুত করা হয়েছিল, তা আবার সঠিক পথে ফেরানোর পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। ভবিষ্যৎ সংসদের দায়িত্ব হবে জনগণের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখা।

‘ভোটের গাড়ি’ কর্মসূচির উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য জনগণকে ভোটদানে উদ্বুদ্ধ করা। সবাই যেন শান্তিপূর্ণভাবে ও আনন্দঘন পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেয়—এটাই সরকারের প্রত্যাশা।

অনুষ্ঠানে ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওছার। এ সময় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, ‘ভোটের গাড়ি’ কর্মসূচিটি আগামী দুই দিন ভোলার বিভিন্ন উপজেলায় পর্যায়ক্রমে কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD