নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা হবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পুলিশ বাহিনী নিরপেক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচন একটি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব এবং এ প্রক্রিয়ায় পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) রাজধানীর রাজারবাগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রেনিং একাডেমিতে আয়োজিত ‘নির্বাচনী দায়িত্বে পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ কর্মশালা’ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: এনইআইআর পদ্ধতি ৩ মাস বন্ধ থাকবে
বিজ্ঞাপন
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনের সময় মাঠে দায়িত্বে থাকা প্রতিটি পুলিশ সদস্য জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে কাজ করবেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন—তা নিশ্চিত করাই পুলিশের প্রধান দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা, সততা ও পেশাদার আচরণ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। নির্বাচন-পূর্ব, নির্বাচনকালীন এবং নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে কীভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে—সে বিষয়ে পুলিশ সদস্যদের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানো হলে নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী হবে।
বিজ্ঞাপন
এ সময় তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার ২৩তম ব্যাচের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী, পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (ডেভেলপমেন্ট) সরদার নুরুল আমিন, ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) মো. সরওয়ারসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা।
ডিএমপি সূত্র জানায়, গত ৫ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশ সদস্যদের দক্ষতা, সক্ষমতা ও প্রস্তুতি বৃদ্ধি করা। ইতোমধ্যে ২২টি ব্যাচের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে ১৮ হাজার ১৫০ জন পুলিশ সদস্য অংশগ্রহণ করেছেন। ডিএমপির ১৯টি ভেন্যুতে মোট ২৮টি ব্যাচে প্রায় ২৪ হাজার ৩৪২ জন পুলিশ সদস্যকে এই প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী পুলিশ সদস্যদের জানানো হয়, নিরপেক্ষতা ও আইনের শাসন বজায় রেখেই নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করতে হবে, যাতে জনগণের আস্থা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আরও সুদৃঢ় হয়।








