সশস্ত্র বাহিনীকে নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রেখে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে নির্বাচন সবার জন্য অংশগ্রহণমূলক, শান্তিপূর্ণ ও শঙ্কামুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন হয়।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ঢাকার সেনাসদরে হেলমেট অডিটোরিয়ামে সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।
সভায় বক্তব্যের শুরুতেই প্রধান উপদেষ্টা দেশের বিভিন্ন সংকটময় সময়ে সশস্ত্র বাহিনীর দায়িত্বশীল ও গৌরবোজ্জ্বল অবদানের কথা স্মরণ করেন। দীর্ঘ সময় ধরে ধৈর্য, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখায় তিনি বাহিনীর সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তার মতে, দেশের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ, আর নির্বাচনকালীন সময়ে এই দায়িত্ব আরও বাড়ে।
বিজ্ঞাপন
সভায় নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় ড. ইউনূস বলেন, নির্বাচন যেন বিশ্বাসযোগ্য ও সুষ্ঠু হয়, সে জন্য সব বাহিনীকে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখতে হবে।
তিনি আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়, দক্ষতা ও পেশাদার আচরণের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। জনগণের আস্থা অর্জনই হবে বাহিনীর প্রধান লক্ষ্য।
প্রধান উপদেষ্টা সভাস্থলে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান।
বিজ্ঞাপন
সভায় তিন বাহিনীর ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট আমন্ত্রিত অতিথি এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে গুরুত্ব বেড়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে এই বৈঠককে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।








