সংসদীয় দলের নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত তারেক রহমান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ী হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের শপথকক্ষে দলটির নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন। এরপর সরকারি দলের জন্য নির্ধারিত সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সংসদীয় দলের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে তারেক রহমান-কে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত করা হয়।
বিজ্ঞাপন
শপথগ্রহণ শেষে তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের প্রেক্ষাপটে তাকে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথকক্ষে বিএনপির নবনির্বাচিত এমপিদের শপথবাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে সকাল থেকেই সংসদ ভবন এলাকায় ভিড় লক্ষ্য করা যায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল চোখে পড়ার মতো।
বিজ্ঞাপন
ইসি সচিবালয় সূত্র জানায়, প্রথমে বিএনপির সদস্যদের শপথ পড়ানো হয়। পরে বিএনপি জোটের নির্বাচিত তিন সদস্য এবং দুপুর ১২টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র নির্বাচিত এমপিদের শপথ পড়ানোর সময় নির্ধারণ করা হয়। এরপর জামায়াতের জোটভুক্ত অন্য দলের সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে।
শপথ শেষে সংসদ ভবনের তৃতীয় তলায় রাখা শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করবেন সদস্যরা। পরিচয়পত্র প্রস্তুতের জন্য ছবি তোলা, আঙুলের ছাপ ও ডিজিটাল স্বাক্ষরের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এ জন্য ১০টি বুথ স্থাপন করা হয়েছে। শপথ আয়োজনের জন্য নিচতলার শপথকক্ষ এবং নবম তলার সরকারি ও বিরোধী দলের সভাকক্ষ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, শপথ শেষে সকাল সাড়ে ১১টায় সংসদীয় দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী, সংসদ নেতা, উপনেতা ও চিফ হুইপ নির্বাচনের পাশাপাশি স্পিকার পদে প্রার্থী চূড়ান্ত হতে পারে, যা সংসদের প্রথম অধিবেশনে কণ্ঠভোটে পাস হবে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেননি বিএনপি
সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বিএনপির সংসদীয় দল রাষ্ট্রপতির কাছে প্রধানমন্ত্রীর শপথ আয়োজনের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানাবে। এর ভিত্তিতে বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন।
মন্ত্রিসভার শপথ উপলক্ষে দক্ষিণ প্লাজায় মঞ্চ ও আমন্ত্রিত অতিথিদের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সংসদ ভবন এলাকায় সাজসজ্জাও সম্পন্ন হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে এবার মূল ভবনে শুধু নবনির্বাচিত এমপিদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যদিও বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাখা হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১ হাজার ২০০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে ১৬৫ জন ছাড়া অন্যদের সাধারণ ছুটি দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতে কিছু পরিবর্তন হতে পারে।
এবার শপথ অনুষ্ঠানে সংবাদমাধ্যমের প্রবেশ সীমিত রাখা হয়েছে। অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করবে বাংলাদেশ টেলিভিশন। সেখান থেকে সাংবাদিকেরা তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন। তবে মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ও নির্ধারিত সাংবাদিকদের প্রবেশের সুযোগ থাকবে।
বিজ্ঞাপন
ত্রয়োদশ সংসদের সদস্যদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও আলাদা শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেছে সংসদ সচিবালয়।








