Logo

বঙ্গভবনের পরবর্তী উত্তরাধিকারী কে- নির্বাচন কবে ও কীভাবে?

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৩:০৯
বঙ্গভবনের পরবর্তী উত্তরাধিকারী কে- নির্বাচন কবে ও কীভাবে?
ছবি: সংগৃহীত

নতুন সংসদ সদস্যদের শপথের মাধ্যমে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্যরাও ইতোমধ্যে শপথ নিয়েছেন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর এখন আলোচনায় এসেছে—রাষ্ট্রপতির পদে পরিবর্তন হবে কি না, হলে কবে ও কীভাবে।

বিজ্ঞাপন

বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন দায়িত্ব নিয়েছিলেন শেখ হাসিনা সরকারের আমলে। গণ-অভ্যুত্থানের মুখে সেই সরকারের পতনের পর ছাত্র-জনতার পক্ষ থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তবে শুরু থেকেই বিএনপি এ দাবির বিরোধিতা করে। শেষ পর্যন্ত তার কাছেই তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার শপথ গ্রহণ করে।

রাষ্ট্রপতির মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত। ফলে সাংবিধানিকভাবে তিনি পদে বহাল থাকা অবস্থায় নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সুযোগ নেই। সংবিধান বিশ্লেষকদের মতে, পদত্যাগ বা অভিশংসনের মাধ্যমে পদ শূন্য না হলে নতুন কেউ শপথ নিতে পারবেন না।

বিজ্ঞাপন

আইনজীবী কাজী জাহেদ ইকবালের ভাষ্য, সংবিধানেই রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পদ্ধতি নির্ধারিত আছে। পদ শূন্য হলে তবেই নতুন সংসদ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করতে পারবে।

তিন কারণে শূন্য হতে পারে পদ: বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর এবং সর্বোচ্চ দুইবার দায়িত্ব পালন করা যায়। পদ শূন্য হতে পারে— মেয়াদ শেষ হলে, স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলে, অভিশংসনের মাধ্যমে অপসারণ হলে।

২০২৪ সালের অক্টোবরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন হলেও শেষ পর্যন্ত তিনি পদে বহাল থাকেন। তবে গত ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর সরে দাঁড়াতে চান। তার বক্তব্য ছিল, নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করা উচিত।

বিজ্ঞাপন

বিশ্লেষকদের ধারণা, নতুন সরকার গঠনের পর রাষ্ট্রপতি পদে পরিবর্তনের প্রশ্নটি সামনে আসতে পারে। সংসদ সদস্যরা শপথ নেওয়ার পর নতুন স্পিকার দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। রাষ্ট্রপতি যদি স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন, তাহলে অভিশংসনের প্রয়োজন হবে না। আগে থেকেই সরে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করায় এ প্রক্রিয়ায় জটিলতা কম হতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া:

বিজ্ঞাপন

সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ থেকে পাঁচ বছর পদে থাকবেন এবং দুইবারের বেশি এ পদে থাকা যাবে না। শারীরিক বা মানসিক অসুস্থতা, গুরুতর অসদাচরণ কিংবা পদত্যাগের মাধ্যমে পদ শূন্য হলে নির্বাচন কমিশন নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আয়োজন করে।

বর্তমান ব্যবস্থায় সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। প্রার্থী হতে হলে বয়স কমপক্ষে ৩৫ বছর এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে। একসময় সরাসরি ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান থাকলেও ১৯৯১ সালে সংসদীয় পদ্ধতিতে ফেরার পর তা বাতিল হয়।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার, যিনি ‘নির্বাচনী কর্তা’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করে তফসিল ঘোষণা করা হয়। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, মেয়াদ শেষজনিত কারণে পদ শূন্য হলে সংশ্লিষ্ট তারিখের আগের ৯০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

মনোনয়নের ক্ষেত্রে একজন প্রস্তাবক ও একজন সমর্থক—দুজন সংসদ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। একক প্রার্থী হলে ভোটগ্রহণের দরকার হয় না। তফসিল ঘোষণার পর সংসদ অধিবেশন চলাকালীন ভোট হয়। অধিবেশন না থাকলে প্রজ্ঞাপন জারি করে অন্তত সাত দিন আগে অধিবেশন আহ্বান করতে হয়।

ক্ষমতার ভারসাম্যের প্রশ্ন:

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সীমিত—এমন মত দীর্ঘদিনের। অনেকেই পদটিকে ‘আলংকারিক’ বলে উল্লেখ করেন। তবে রাজনৈতিক সংকটের সময় রাষ্ট্রপতির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে সংসদ ভেঙে গেলে রাষ্ট্রপতিই একমাত্র সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ হিসেবে বহাল থাকেন।

সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিতে পারেন, এবং এ ক্ষেত্রে কারও পরামর্শ নেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। যদিও বাস্তবে এ ক্ষমতার প্রয়োগ নিয়ে খুব বেশি নজির নেই বলে মত বিশ্লেষকদের।

রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের ঐকমত্য কমিশনের আলোচনার ভিত্তিতে প্রণীত ‘জুলাই সনদ’-এ প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য আনার প্রস্তাব রয়েছে। প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হলে মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল, আইন কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার বাড়তে পারে।

বিজ্ঞাপন

তবে এসব কার্যকর করতে সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন, যা সময়সাপেক্ষ। সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, সেই অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে রাষ্ট্রপতি পদে পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম।

জেবি/জেএইচআর
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD